প্রায় দুই দশক ধরে চট্টগ্রামের কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাট দিয়ে যাত্রী চলাচল ছিল একটি মাত্র প্রতিষ্ঠানের হাতে। একক মালিকানায় থাকায় ইজারাদার প্রতিষ্ঠান কাঙ্ক্ষিত সেবা না দিয়ে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করতেন। সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে নৌ-রুটটি উন্মুক্ত করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এখন থেকে যে কেউ সরকারি রাজস্ব দিয়ে নৌযানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করতে পারবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, দুই মাস আগেও এ রুটের মাত্র ১৭ কিলোমিটার নৌ-পথে স্পিডবোটে যাত্রী পরিবহনে ভাড়া আদায় হতো জনপ্রতি ৩৮০ টাকা। ৫ আগস্টের পর যাত্রীপ্রতি ভাড়া কমানো ছাড়াও নৌ-পথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সেবা বাড়াতে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থী এবং যাত্রীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিআইডব্লিউটিএসহ স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় যাত্রী ভাড়া কমিয়ে ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ওই সময় যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর কথা থাকলেও সেটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ঘাটটি দিয়ে নৌযান চলাচল উন্মুক্ত করে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিআইডব্লিউটিএ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এতে বলা হয়, কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌপথে স্পিডবোটসহ যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান মালিক, মাস্টার, চালক, সুকানি, গ্রিজারগণ রেজিস্ট্রেশনবিহীন নৌযান পরিচালনা করছেন। এ রুটে নৌ-চলাচলে আগ্রহী নৌযানগুলোকে সার্ভে রেজিস্ট্রেশন করে রুট পারমিট ও সময়সূচি গ্রহণ করতে অনুরোধ জানানো হয়।
বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ) মো. আজমল হুদা মিঠু সরকার স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে নৌযান চলাচলের অনুমতি নিতে আবেদন ফরম বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও চট্টগ্রামের উপপরিচালক (নদীবন্দর) ছাড়াও ঢাকা আঞ্চলিক (সদর দপ্তর) কার্যালয়ে পাওয়া যাবে।
চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের অন্যতম যাতায়াত রুট কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটটি বিআইডব্লিউটিএর মালিকানাধীন। তবে জেলা পরিষদের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা দীর্ঘদিন দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ ঘাটটির ইজারাদার নিয়োগের পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান বাড়াতে ভাড়া নির্ধারণ ছাড়াও ঘাটটি উন্মুক্ত করে দিয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর এ উদ্যোগের ফলে ভাড়া ও সেবার মান প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে আশা করছেন যাত্রীরা।










