ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি হাদির মৃত্যুর পর সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক স্থাপনায় হামলা ও আগুনের ঘটনারও নিন্দা জানিয়েছে। এ হামলাকে আসন্ন নির্বাচন অনিশ্চিত করার ষড়যন্ত্র বলে মনে করছে দলটি।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে স্থায়ী কমিটির জরুরি সভার পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটি জানায়, হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গতকাল (বৃহস্পতিবার) মাঝরাতে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে একদল উশৃঙ্খল মানুষ অগ্নিসংযোগ করেছে। কর্মরত সাংবাদিকদের জীবনমৃত‍্যুর ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবিরের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। ছায়ানটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানেও হামলা করা হয়েছে। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও ঘৃণা প্রকাশ করছি।

এসব ঘটনা প্রমাণ করে, একটি মহল দেশকে পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্যের পথে নিয়ে যেতে চায়। অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের ভোটাধিকার তথা গণতান্ত্রিক অধিকারকে তারা নস্যাৎ করে দেশে ফ‍্যাসিবাদের একটি নতুন সংস্ককরণ তৈরি করতে চাচ্ছে। সরকারের নাকের ডগাতেই তারা এ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। জনগণও মনে করে সরকারের ভূমিকা সন্তোষজনক নয়। ফলে দেশবিদেশে সরকার তথা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি জানায়, এ ধরনের ন‍্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা আগামী জাতীয় নির্বাচন তথা গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করার ষড়যন্ত্র বলেই আমরা মনে করি। এতো রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশকে আমরা ধ্বংস হতে দেব না। এ অপশক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিতে হবে। নৈরাজ্যবিরোধী সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির আজ ঐক‍্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই


যে ঐক্যের মাধ্যমে আমরা ফ‍্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও জাতীয় নির্বাচন আদায় করেছি, তারই ধারাবাহিকতাতে আমরা সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে আজ আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।