দুই দশক পর আজ চট্টগ্রামে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনী সমাবেশে তিনি চট্টগ্রামবাসীকে নতুন বার্তা দেবেন বলে আশা করছেন দলটির স্থানীয় নেতারা। পলোগ্রাউন্ড মাঠে আগামীকালের এ জনসভায় তাই চট্টগ্রামের স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জমায়েত করার পরিকল্পনা নিয়ে তারা এগোচ্ছেন।

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর দ্বিতীয় সফর হিসেবে তারেক রহমান বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আসছেন। এর আগে ২০০৫ সালের ৬ মে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে সর্বশেষ জনসভা করেছিলেন তিনি। সে সময় তারেক ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। এবার আসছেন দলের চেয়ারম্যান হিসেবে।

নগর বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান আজ রাতে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছাবেন। রেলওয়ের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আগামীকাল বেলা ১১টায় চট্টগ্রামে তিনি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনের প্রচারণার এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও বিপুল জনসমাগমের আশা করা হচ্ছে। তাই পলোগ্রাউন্ড মাঠের আশপাশের এলাকাগুলোয় মাইক লাগানো হচ্ছে।

নগর বিএনপির একাধিক নেতা জানান, সমাবেশকে সাফল্যমণ্ডিত করতে দলীয়ভাবে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা দলীয় নেতাকর্মীদের বহনকারী যানবাহন সুশৃঙ্খলভাবে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের দিন সকালে সমাবেশ হওয়ায় জনগণের ভোগান্তি এড়ানো, যানজট সৃষ্টি প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে দলটি। এজন্য সমাবেশস্থল ছাড়াও আগ্রাবাদ, নিউমার্কেট, লালখান বাজার, কাজির দেউড়িসহ নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে মাইকের মাধ্যমে তারেক রহমানের ভাষণ সরাসরি প্রচার করা হবে। এজন্য চট্টগ্রাম ছাড়াও রাজধানী ঢাকা থেকে ২০০টি মাইক ভাড়া করে নিয়ে আসা হয়েছে। সমাবেশ নিয়ে গঠিত কমিটির শৃঙ্খলা উপকমিটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নেতাকর্মীকে সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম খাজা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘তারেক রহমানের চট্টগ্রামে আগমনকে ঘিরে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিএনপির রাজনীতিতে চট্টগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলেই নির্বাচনকে সামনে রেখে রোববারের সমাবেশে রেকর্ড পরিমাণ নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের উপস্থিতি আশা করছি। সমাবেশকে সফল ও নির্বিঘ্ন করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকেও শৃঙ্খলা কমিটির মাধ্যমে কাজ শুরু হয়েছে। জনগণের ভোগান্তি যাতে না হয় সেজন্য স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যানবাহনের কারণে যানজট এড়ানো, দূরদূরান্তের মানুষ যাতে সমাবেশে না এসেও তারেক রহমানের ভাষণ শুনতে পারেন সে বিষয়েও বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

জানা গেছে, পলোগ্রাউন্ড মাঠে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের মঞ্চ প্রস্তুতির কাজ চলছে। মঞ্চের সামনে নিরাপত্তাকর্মী, এরপর নারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে পৃথক স্থান। এরপরের অংশে সমাবেশে আসা নেতাকর্মীরা অবস্থান নেবেন।

সমাবেশের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের আইন-শৃঙ্খলার যাতে অবনতি না হয়, সে জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে রোববারের সমাবেশকে সামনে রেখে অধিকসংখ্যক পুলিশ কাজ করছে। নিরাপত্তা ইস্যুতে জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করে পুলিশের কয়েক গুণ কর্মকর্তা নিরবচ্ছিন্নভাবে মাঠে রয়েছেন। আশা করি নির্বাচনী প্রচারণা ছাড়াও বিএনপির সমাবেশ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে।’