সরকারের খাদ্যসহায়তার (ভিজিএফ) কার্ড ও বিকল্প কর্মসংস্থানের অর্থ বিতরণে অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন করেছেন মেঘনায় ভাসমান মাছ শিকারি জেলেরা। সদর উপজেলার চর রমণীমোহন ইউনিয়নের মজু চৌধুরীর হাট এলাকায় গতকাল বিকালে মেঘনা নদীর পারে তারা এ মানববন্ধন করেন। 

তাদের অভিযোগ, মেঘনা নদীতে অভিযান চলাকালে জেলেদের জন্য বরাদ্দের চাল অনিয়মের মাধ্যমে প্রবাসীর পরিবার, ব্যবসায়ীসহ অন্য পেশার লোকজনকে দিয়ে দেয়া হয়। এতে প্রতি বছরই বঞ্চিত হচ্ছে লক্ষ্মীপুর মৌজু চৌধুরীর হাট এলাকার ভাসমান জেলে সম্প্রদায়। অভিযানকালে নদীতে নামতে না পারায় তখন মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় তাদের। 

জানা যায়, মজু চৌধুরীর হাট এলাকায় ২২০টি ভাসমান জেলে পরিবার মেঘনা নদীতে মৎস্য শিকারের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। তবে বছরে দুই সময় মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার। তখন নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে হয় তাদের। এর মধ্যে অক্টোবরে ২২ দিনের অভিযান চলাকালে মাত্র ৫৬ জন ভাসমান জেলেকে ১৮ কেজি হারে সরকারি চাল দেয়া হয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে। কিন্তু মার্চ-এপ্রিল দুই মাসের অভিযানকালে ৪০ কেজি হারে চাল দেয়ার কথা থাকলেও ২২০ পরিবার দূরে থাক, ওই ৫৬ জেলেও তা পায় না। তখন ধারদেনা করেই চলতে হয়। 

গতকালের মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ভাসমান জেলে সর্দার মো. সৌরভ মাঝি, মো. আবদুল গনি মাঝি, মানদক, কদ বানু, হাজেরা বিবি, মরিয়ম বিবি, মরনি বেগম, মিনোয়ারাসহ জেলে পরিবারের বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ। জেলে সর্দার মো. সৌরভ মাঝি ও কদ বানু অভিযোগ করেন, কার্ডধারী জেলেরা সরকারি চাল পায় না। সরকারি চাল পায় বাজারের ব্যবসায়ী, প্রবাসীর পরিবার ও রিকশাচালকরা। অভিযান চলাকালে জেলেরা মাছ ধরা থেকেও বঞ্চিত, সরকারি খাদ্য সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হয়। 

তারা অভিযোগ করেন, ভাসমান জেলেদের সরকারি এ খাদ্য সহায়তার আওতায় আনতে স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সহযোগিতা পাচ্ছেন না। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সারোয়ারের কাছে আবেদন করতে গেলে ওই কর্মকর্তাও খারাপ আচরণ করে তাদের তাড়িয়ে দেন বলে জানান। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সারোয়াজ্জামান বলেন, ‘অক্টোবর মাসের ২২ দিন অভিযানের সময় অতিরিক্ত বরাদ্দ থাকে। তাই জেলেরা ২৫ কেজি করে পাওয়ার কথা। ১৮ কেজি করে কেন পায়, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। তাছাড়া মার্চ-এপ্রিল দুই মাস অভয়াশ্রম মৌসুমের সময় সরকারি নিবন্ধিত জেলেদের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে এ খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘মজু চৌধুরীর হাট এলাকার ভাসমান জেলের নিবন্ধন আবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শিগগিরই সরকারি খাদ্যসহায়তা ভিজিএফের আওতায় আনা হবে।’