নির্বাচন যেদিনই হোক, তার আগে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুরে পুরান পল্টনের দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

ব্রিফিংয়ে আগামী ২৮ জুনের মহাসমাবেশের প্রস্তুতির নানাদিক তুলে ধরেন দলটির মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমেদ। বলেন, মহাসমাবেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমকে আহ্বায়ক করে ২৪ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। ১২টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। মহাসমাবেশের মাঠ তথা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রশাসনিক অনুমতি সম্পন্ন হয়েছে। স্টেজ নির্মাণসহ সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ের রয়েছে। মহাসমাবেশ এলাকার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় নিজস্ব বিশাল স্বেচ্ছাসেবক দল এরই মধ্যে প্রস্তুত রয়েছে।

অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ জানান, এই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সারাদেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সংস্কার, বিচার ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবীকে জনমানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি এলাকায় পোস্টার, লিফলেট, ফেস্টুন, ব্যানার প্রদর্শিত হয়েছে। এলাকায় এলাকায় গণমিছিল, মোটরসাইকেল শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন থেকেই যানবাহন ভাড়া করা হয়েছে। দশ লাখেরও বেশি জনতা ২৮ তারিখে ঢাকায় জমায়েত হবে বলে আশা করেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে দলের মহাসচিব বলেন, আমাদের মহাসমাবেশের প্রচারণায় দেশব্যাপী মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পেয়েছি তাতে আমরা আপ্লুত। তবে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল আমাদের প্রচারকার্য ব্যহত করার জন্য মুন্সীগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মহাসমাবেশের ব্যানার বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নব্য ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। আমরা এসব কর্মকান্ডের নিন্দা জানাই।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব এবং দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়া প্রায় সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। তারা আমাদের আমন্ত্রণ উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করছেন। ইনশাআল্লাহ জাতীয় নেতাদের একটি মিলনমেলা হতে যাচ্ছে ২৮ জুনের মহাসমাবেশ।

এছাড়াও তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, গণহত্যার বিচার ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরে আমরা সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন চাই।

পুলিশের হাইওয়ে ও ট্রাফিক বিভাগের প্রতি আহ্বান রেখে তিনি বলেন, সারা দেশ থেকে কয়েক হাজার গাড়ি শুক্রবার রাতে ঢাকায় প্রবেশে করে শনিবার রাতে বের হবে। ফলে হাইওয়েগুলোয় নেতাকর্মীদের আসা-যাওয়া নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আহ্বান করছি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, যুগ্ম মহাসচিব এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব কেএম আতিকুর রহমান, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম, উপদেষ্টা কৃষিবিদ আফতাব উদ্দীন, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল কাশেম, সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) মাওলানা আরিফুল ইসলাম, সহ-প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক কেএম শরীয়াতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় সদস্য মুফতী মোস্তফা কামাল।