লক্ষ্মীপুরে আব্দুস সহিদ নামে এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। চোর সন্দেহে নয়, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে সহিদকে হত্যা করা হয় বলে দাবি নিহতের স্ত্রী ও স্বজনদের। গতকাল বিকালে লক্ষ্মীপুর শহরের একটি পত্রিকা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি করেন নিহত সহিদের স্ত্রী বিবি কুলছুমা বেগম। নিহত আব্দুস সহিদ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম চর রমণী মোহন গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত হাসেম মোল্লার ছেলে ও চার ছেলেসন্তানের জনক।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্ত্রী বিবি কুলছুমা বেগম বলেন, মৃত্যুর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্বামী তার কাছে ঘটনার বর্ণনা করেছেন। তাকে চোর আখ্যা দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সদর উপজেলার চর রমণী মোহন ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়ালের নির্দেশে তার ছেলে আবু সুফিয়ান ও ভাতিজা বাবুল ছৈয়াল এবং আত্মীয় দেলোয়ার মুন্সিসহ মামলার অন্য আসামিরা জড়িত ছিল।

তিনি বলেন, মামলার বাবুল ছৈয়াল, দেলোয়ার মুন্সি ও হুমায়ূনের সঙ্গে আগে থেকে বিরোধ ছিল তার স্বামী আব্দুস সহিদের। প্রায় দুই বছর আগে আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন তিনি। বিরোধের জেরে গত ১১ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত দেলোয়ার মুন্সির বাড়িতে চুরির সাজানো ঘটনার মামলায় আমি দীর্ঘদিন কারাভোগ করি। কারামুক্তির পর তারা আমার ওপর ২৪ এপ্রিল হামলা চালায়। এ ঘটনায় গত ২৫ মে আমি দেলোয়ার মুন্সি, বাবুল ছৈয়াল, গিয়াস উদ্দিন মুন্সী ও হুমায়ূনকে বিবাদী করে আদালতে মামলা করি। এরপর থেকে আমাকে ও আমার স্বামী আবদুস সহিদকে হত্যার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে আসছিল আসামিরা। তাদের ভয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে স্বামীকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যাই। তবুও শেষ রক্ষা হলো না তার স্বামীর।

স্বামী হত্যার বিবরণ দিয়ে কুলছুমা আরো বলেন, গত ১৪ জুন রাতে আব্দুস সহিদ আমার বাবার বাড়ি মধ্য চররমণী মোহন থেকে মাকে দেখতে পশ্চিম চররমণী মোহনে নিজ বাড়ি যান। রাত ১০টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যানের পরামর্শে মামলার অন্য অভিযুক্তরা তার স্বামীকে স্থানীয় একটি খাল পাড়ের সুপারি বাগানে নিয়ে চোর আখ্যা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্যাতন করে। পরদিন সকালে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় আব্দুস সহিদকে উদ্ধার করে প্রথমে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ও পরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ জুন সকালে মারা যান আব্দুস সহিদ। এ ঘটনায় রাতেই ইউপি চেয়ারম্যানসহ ২৭ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করা হয়। কিন্তু এখনো কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় শঙ্কিত তিনি। অভিযুক্তরা প্রতিনিয়তই হত্যার হুমকি দিচ্ছে।