একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। রাজধানীর একটি হাসপাতালে আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার সহকারী রুবেল মিয়া।
প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান মুস্তাফা মনোয়ার। দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখেছেন তিনি।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে মুস্তাফা মনোয়ার একুশে পদকে ভূষিত হন।
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে নেয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফের ভেন্টিলেটরে নেয়া হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রোস্টেট ক্যানসারের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মুস্তাফা, ছিলেন লাইফ সাপোর্টে। সেবার ভারতের দিল্লিতে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছিলেন। ওই অসুস্থতার দুই বছর পর নিউমোনিয়ার ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয় তাকে।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে মুস্তাফা মনোয়ারের জন্ম। কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে শিক্ষা জীবন শেষ করেন তিনি।
কর্মজীবনের শুরুটা পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
মৃত্যুকালে স্ত্রী মেরী মনোয়ার, এক ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে গেছেন মুস্তাফা মনোয়ার।










