কক্সবাজারের টেকনাফে গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় গুদাম ও মাঠে মজুদ করা অর্ধকোটি টাকার প্রায় সাড়ে ১৬ টন লবণ গলে গেছে। এতে লবণ মজুদদার ও চাষীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এ অবস্থায় লবণ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি প্রণোদনা কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
টেকনাফের হ্নীলা লবণ ব্যবসায়ী সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনের বন্যায় হ্নীলা ইউনিয়নের লবণচাষী ও ব্যবসায়ীদের গুদাম ও মাঠে মজুদ করা প্রায় ১৬ টন লবণ পানিতে মিশে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন হ্নীলা ফুলের ডেইলের মাহবুব মোরশেদ, চৌধুরী পাড়ার ক্যজলা চৌধুরী, গাজী পাড়ার নুর আলম মিস্ত্রী, নাটমোরা পাড়ার আব্দুর রহিম, দক্ষিণ ফুলের ডেইলের ফকির, নাটমোরা পাড়ার ঈমাম হোসেন, আলীখালীর ছৈয়দ আহমদ, গুরা মিয়া, সোনা আলী ওরফে ভুলু, কামাল হোসেন, ফিরোজ, নুর মোহাম্মদ, গুরা মিয়া-২, রঙ্গিখালীর মোহাম্মদ হোসেন, আবুল হোসেন, মীর কাশেম সওদাগর, ফুলের ডেইলের সফিক আহমদ, সিকদার পাড়ার আলম, পানখালীর খলিল প্রমুখ।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, তারা ধারকর্জ করে লবণের মাঠ করেছিলে। লবণের দাম কম থাকায় তা ন্যায্যমূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ করেছিলে। এখন বন্যায় সব নিয়ে গেল। এ অবস্থায় মহাজনেরা টাকার জন্য খুঁজতে শুরু করেছেন। এখন অনেকের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। হ্নীলা লবণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাবের খান বলেন, বন্যার কারণে হ্নীলার লবণচাষী ও ব্যবসায়ীরা এবারের মতো এত ক্ষতির শিকার আগে হননি। তাই জনগুরুত্বপূর্ণ এ শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের সহায়তা কামনা করছি।
হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বেলন, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও গাছপালার পাশাপাশি এ ইউনিয়নের লবণ ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। লবণ চাষ ও উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রাখতে এ ইউনিয়নের লবণচাষী ও ব্যবসায়ীদের অনুদান বা প্রণোদনা দেয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।









