জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ঘর দেয়া হয়েছে। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় এসব ঘর নির্মাণ করা হয়। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় এ প্রকল্পের নামকরণ করা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৬ আসনের সংসদ সদস্যের মায়ের নামে। এমন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে খোদ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবে সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুল এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন বলছে, এ বিষয়ে কাউকে জানাননি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।

উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের নুরজাহানপুর গ্রামে গৃহহীনদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের গুচ্ছগ্রাম ঘুরে দেখা যায়, প্রকল্পটিতে ৯০টি গৃহহীন পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের কিছু কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। গুচ্ছগ্রামের সামনের খালি জায়গায় প্লাস্টিকের সাইনবোর্ডে লেখা ‘নুরজাহানপুর রাবেয়া খাতুন পল্লী’। সাইনবোর্ডে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মায়ের নাম ব্যবহার করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান নবীনগর উপজেলায় প্রায় ১০ বছর ধরে চাকরি করছেন। নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও দীর্ঘদিন এক উপজেলায় দীর্ঘদিন বহাল আছেন তিনি। সম্প্রতি নির্মাণাধীন গুচ্ছগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের নামের পরিবর্তে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মা নুরজাহান রাবেয়া খাতুনের নাম ব্যবহার করেছেন নবীনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। সংসদ সদস্যকে খুশি করতেই এ কাজ করেছেন তিনি।

বড়িকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার পারভেজ হারুত বলেন, পিআইও স্যারের লোকজন এসে এখানে সাইনবোর্ডটি লাগিয়েছে। যেহেতু আমাদের এমপির মায়ের নামে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে, তাই আমরা এ বিষয়ে কিছু বলতে পারি না।

প্রকল্পের নামকরণের বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুলের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল করা হলে তিনিও সাড়া দেননি।

তবে এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একরামুল সিদ্দিক বলেন, সংসদ সদস্য আমাকে ফোনে জানিয়েছেন, তার মায়ের নামে যে প্রকল্পের নামকরণ করা হয়েছে, সে ব্যাপারে তিনি অবগত নন। এমপি ও ইউএনওর সঙ্গে পরামর্শ না করে কে বা কারা কাজটি করেছে তা যাচাই করা হবে। এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকেও জিজ্ঞাসা করা হবে। সাইনবোর্ডটি সরিয়ে ফেলা হবে।