করোনার কারণে কর্মহীন খুলনার সাতটি বিহারী কলোনির বাসিন্দারা। এসব কলোনির তিন হাজার পরিবার খেয়ে না খেয়ে বহু কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। ত্রাণ তৎপরতার এক মাস হতে চললেও ৮৫ ভাগ পরিবারের কাছেই এখনো কিছু পৌঁছায়নি। স্থানীয় কাউন্সিলরের মাধ্যমে ১৫ ভাগ পরিবার খাদ্য সহায়তা পেলেও খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই জনগোষ্ঠী এখনও কোনো সহায়তা পায়নি।

‘আটকে পড়া পাকিস্তানিদের’ সংগঠন স্ট্যান্ডার্ড পাকিস্তানি জেনারেল রিপাট্রিয়েশন কমিটির (এসপিজিআরসি) খুলনা অংশের সাধারণ সম্পাদক কবীর হোসেন বলেন, বিহারি ক্যাম্পগুলোতে খাদ্য সঙ্কট বেড়েছে। দুদিন আগে এ কমিটির একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বিহারীদের খাদ্য সঙ্কটের কথা জানান। 

তিনি বলেন, বিহারীদের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন বলা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিহারীদের  করে কোনো খাদ্য সহায়তাই দিচ্ছেন না। তারা যেভাবে দিচ্ছেন তাতে বিহারীদের ১৫ ভাগ পরিবার পেয়েছেন। বাকি ৮৫ ভাগে কিছুই জোটেনি। 

তিনি আরো বলেন, খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে ৫টি ও গিলাতলায় ১টি এবং মহানগরীর কোল ঘেষা রূপসা উপজেলার রহিমনগরে ১টি ক্যাম্প রয়েছে। এ ৭টি ক্যাম্পে প্রায় ৩ হাজার বিহারী পরিবার বসবাস করছেন। আমাদের খবর কেউ নেয় না।  সংগঠনেরও তেমন তহবিল নেই। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া পরিবারগুলো না খেয়ে মারা পড়বে।

গিলাতলা বিহারি ক্যাম্পের মো. শাহিন বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের মতো এখনও আমরা বিহারিরা অবহেলিত। আমাদের খবর কেউ নেয় না। করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এখানকার নিম্ন আয়ের মানুষরা। তারা খুবই সঙ্কটের মধ্যে রয়েছেন। 

কলোনির অপর বাসিন্দা রাবেয়া বেগম বলেন, আমরা খানজাহান আলী থানা এলাকার বাসিন্দা। এখানে সবাই মানবেতন জীবনযাপন করছে। 

খুলনার খালিশপুর বিহারী কলোনি

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, সিটি কর্পোরেশন এলাকা থাকা বিহারী ক্যাম্পের সঙ্কটপূর্ণ পরিবারের তালিকা করে ২-৩ দিনের মধ্যে এক হাজার বিহারী পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে।

এতোদিনেও বিহারী কলোনিতে কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি, তাদের ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, বিহারীদের তালিকা করে পর্যায়ক্রমে খাদ্য সহায়তা প্রদান করার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিদের বলে দেয়া হয়েছে। কেসিসি এলাকায় যারা আছেন তাদের বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদক্ষেপ নিবেন এবং নিয়মিত মনিটরিং করবেন। 

তিনি আরো বলেন, সরকারিভাবে বরাদ্দ আসা খাদ্য সহায়তা জনপ্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তারা তালিকা করে পর্যায়ক্রমে এ সব সহায়তা প্রদান করবেন। খাদ্য সামগ্রী প্রাপ্তি সাপেক্ষে জনপ্রতিনিধিরা পর্যায়ক্রমে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিতরণ করবেন।