জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে দলগুলোর মধ্যে। বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তির সর্বোচ্চ দুবার দায়িত্ব পালনের পক্ষে। তবে কয়েকটি দল পরপর দুবারের পর একবার বিরতি দিয়ে আবার প্রধানমন্ত্রিত্বের সুযোগ রাখার প্রস্তাব দেয়।
গতকাল রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের পঞ্চম দিনের সংলাপে এ আলোচনা হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গণতান্ত্রিক চর্চা বন্ধ করা সঠিক হবে না। আমরা সংস্কার চাই, তবে কোনো একটি বিভাগকে দুর্বল করে ভারসাম্য আনা সম্ভব নয়। একসময় স্বৈরশাসনের অভিজ্ঞতা ছিল, তাই হাত-পা বেঁধে দেয়া সমাধান নয়। বরং মেয়াদের সময়কাল নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত।’
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘সর্বোচ্চ দুবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। তবে এটি হতে হবে পূর্ণ মেয়াদের জন্য। যদি কেউ পূর্ণ মেয়াদ শেষ না করতে পারেন, তাহলে সেটি ভিন্নভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।’
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘এক ব্যক্তি পরপর দুবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। এরপর একবার বিরতি দিয়ে আবার দুবার হতে পারবেন। যতবার ইচ্ছা ততবার তিনি এভাবে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন।’
আমজনতা দলের কার্যনির্বাহী সদস্য সাধনা মহল, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এবং ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান সবাই একাধিক মেয়াদের মাঝে বিরতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ রাখার পক্ষে মত দেন।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, ‘পুরো মেয়াদ না হওয়া নিয়ে বিতর্ক থাকলেও প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ দুবার থাকবেন—এটি বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে।’ গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দুই মেয়াদের সীমা নির্ধারণে একমত হওয়া উচিত।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আমরা আলোচনা করেছি কীভাবে সংবিধানকে জবাবদিহিমূলক এবং ক্ষমতার ভারসাম্যপূর্ণ করা যায়। আমরা মনে করি, একজন ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকাই উচিত।’
গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ‘আগে বলা ছিল পূর্ণ বা ভগ্নাংশ যা-ই হোক, দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। এখন নতুন করে কিছু প্রস্তাব এসেছে। তবে আমরা ঐকমত্যের স্বার্থে কিছু বিষয়ে নমনীয় হয়েছি, কিন্তু কয়েকটি দল অনড় অবস্থানে রয়েছে। এভাবে চললে শতভাগ ঐকমত্যে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে যাবে। সেজন্য ঐকমত্যের একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে।’










