রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতের পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, তবে তা যেন মতবিরোধে রূপ না নেয়—এমন আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল ভোরে সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত এক ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিরোধ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির মন্তব্য করেন, ‘মতানৈক্য থাকতে পারে, কিন্তু মতবিরোধ যেন না হয়। মতের ভিন্নতা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা সব দলের মতকে শ্রদ্ধা করি। মতানৈক্য মানেই অনৈক্য নয়।’

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, সবাইকে নিয়েই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হোক।’

সরকারের আলোচনার আহ্বান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার কোনো সময় বেঁধে দেয়নি, শুধু অনুরোধ করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি বসে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে, তা সরকারের জন্যও ইতিবাচক হবে। আমাদের নায়েবে আমির তাহেরও দেশের স্বার্থে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।’

যুক্তরাজ্য ও তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুনিয়ার সব দেশের সঙ্গে আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই। যেখানে গিয়েছি, সবার কাছেই সম্মান ও আগ্রহ পেয়েছি।’

বিএনপির মনোনয়ন প্রকাশ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে তিনি জানান, ‘বিএনপি ২৩৭টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে, তবে সেটি এখনো চূড়ান্ত নয়। আমাদের ক্ষেত্রেও আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রাথমিক তালিকা আগে থেকেই প্রস্তুত আছে। সময়মতো পূর্ণাঙ্গ তালিকা জানিয়ে দেব।’

তিনি আরো বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী একা নির্বাচন করবে না। জাতীয় স্বার্থে আরো অনেক দলকে সঙ্গে নেবে। সব দিক বিবেচনা করে যথাসময়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করা হবে।’

লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. শফিকুর রহমান সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, ‘আপনি শুনেছেন, আমি শুনিনি।’

জামায়াত আমির জানান, গত ১৯ অক্টোবর ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করেন তিনি। তিনদিনের মধ্যে ওমরাহ সম্পন্ন করে ২২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। সেখানে সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে জামায়াতের দাবির পর সরকার ও নির্বাচন কমিশন এখন ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। তবে নিবন্ধন সফটওয়্যার কার্যকর না হওয়ায় অনেক প্রবাসী ভোটার হতে পারেননি।

ব্রিফিংকালে জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, মাওলানা আব্দুল হালিম, হামিদুর রহমান আযাদ, রফিকুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।