যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ইসিজি বিভাগের প্রায় ৪০ লাখ টাকা ও করোনা পরীক্ষার ৮০ হাজার টাকা লোপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে। এরই মধ্যে অডিট আপত্তি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এ বিষয়ে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে ইসজি বিভাগে কর্তব্যরত দীপক রায়ের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের আপত্তি ধরা পড়ে। মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছালে চার সদস্যের একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গত মঙ্গলবার তদন্ত বোর্ডের প্রতিবেদন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বরাবর জমা দেয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ বাড়িয়েছেন বোর্ড কর্মকর্তা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোর্ডের সদস্য মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইমদাদুল হক রাজু।
তদন্ত বোর্ডের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অডিটে হাসপাতালের ইসিজি শাখায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৯ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ টাকা অডিট আপত্তি উথাপিত হয়েছে। ফলে নিরীক্ষায় আপত্তিকৃত ইসিজি পেপার সংগ্রহ, ব্যবহার ও মজুদ সম্পর্কিত বিষয়ে তদন্ত করার জন্য মেডিকেল কলেজের শিশুবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মাহাবুবুর রহমানকে সভাপতি ও হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দীপাঞ্জন সাহাকে সদস্য সচিব করে চার সদস্যের তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক ডা. ইমদাদুল হক রাজু, হাসপাতালে জুনিয়র কার্ডিওলজি ডা. তৌহিদুল ইসলাম। কমিটিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বরাবর প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ইসিজি বিভাগের সাবেক ইনচার্জ দীপক রায় জানান, হাসপাতালের ইসিজি শাখায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিভাগের মেশিন নষ্ট থাকায় কোনো পরীক্ষা হয়নি। সেই সময় ইসিজি পেপার স্টোরে জমা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সে সময় হাসপাতালের স্টোরে দায়িত্বে থাকা রতন কুমার সরকার রেজিস্টারে এন্ট্রি করেননি। ফলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ৩৯ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ টাকা অডিট আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে। তদন্ত করলে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।
এদিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।









