মজুরী বৃদ্ধির দাবিতে সিলেট বিভাগের ১৩৯টি চা বাগানসহ দেশের ১৬৭টি চা বাগানের শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে চলমান সংকট নিরসনে বৈঠকে মিলিত হয়েছে চা শ্রমিক ও বাগান মালিকদের প্রতিনিধিরা।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর শ্রম ভবনের শ্রম অধিদপ্তরের মহা পরিচালকের কার্যালয়ে এ সভা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সভায় উপস্থিত চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালীর সভাপতি রাজু গোয়ালা। 

গতকাল বুধবার ৭ম দিনের মত অর্ধেক ও পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করছেন চা শ্রমিকরা। এতে অচল রয়েছে চা উৎপাদন। মালিক পক্ষের দাবি কর্মবিরতির ফলে প্রতিদিন অন্তত ৮ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।

এরকম পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের সাথে কথা বলতে গতকাল মঙ্গলবার শ্রীমঙ্গলের শ্রম অধিদপ্তরে আসেন শ্রম অধিদপ্তরের মহা পরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী। তিনি শ্রমিকদেরকে আন্দোলন স্থগিত করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানালে চা শ্রমিক ইউনিয়ন তা প্রত্যাখান করে আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেয়। ফলে আজও কর্মবিরতি অব্যাহত ছিল।

এসময় শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী শ্রমিকদের জানান, আগামী ২৩ আগস্ট ৩০০ টাকা মজুরীর বিষয়ে ঢাকায় বাগান মালিকদের সঙ্গে মন্ত্রী ও সচিবের নেতৃত্বে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবে। তবে ২৩ আগস্টের আগেই আজ বুধবার ঢাকার শ্রম ভবনে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।

এ বিষয়ে চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালীর সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, আমরা শ্রম ভবনে রয়েছি। মঙ্গলবার বৈঠকে মালিক পক্ষ না আসায় আমরা পুনরায় কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছি। তবে আজ মালিক পক্ষও বৈঠকে এসেছেন।

বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও সংগঠনটির নর্থ সিলেট ভ্যালির চেয়ারম্যান নোমান হায়দার চৌধুরী বলেন, ঢাকায় বৈঠক চলছে। আশা করছি একটা সমাধান হবে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন,  তৃণমূল পর্যায়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় মজুরী বৃদ্ধির ঘোষণা আসা ছাড়া আন্দোলন থেকে ফেরা সম্ভব নয়।