চামড়াপট্টি হিসেবে পরিচিত খুলনার শেখপাড়ায় এখন আর কোনো চামড়ার দোকান নেই। জায়গার অভাব, অব্যাহত লোকসান, ট্যানারি ও পাইকারদের কাছ থেকে বকেয়া পাওনা না পেয়ে ব্যবসায়ীরা এখন পথে বসেছেন। একে একে বন্ধ হয়ে গেছে সব দোকান।

জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় মহিলা সংস্থা, মুক্তিযোদ্ধা পল্লী, সিটি করপোরেশনের গ্যারেজসহ চামড়াপট্টির আশপাশে গড়ে উঠেছে সরকারি-বেসরকারি ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। দুর্গন্ধের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাড়ির মালিক ও ব্যবসায়ীদের চাপ দেয়া হয়। বাড়ির মালিকরা চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে দোকান ভাড়া বন্ধ করে দেন। ফলে ধীরে ধীরে চামড়ার দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চামড়া সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় গত বছর খুলনা সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সড়কে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। এবারো বিভিন্ন দপ্তরে সড়কে চামড়া সংরক্ষণের অনুমতির আবেদন করেছেন তারা।

ব্যবসায়ীরা জানান, শেখপাড়া চামড়াপট্টিকে ঘিরেই খুলনার কাঁচা চামড়া ব্যবসা গড়ে ওঠে। অব্যাহত লোকসান, ট্যানারি ও পাইকারদের কাছ থেকে বকেয়া পাওনা না পেয়ে ধীরে ধীরে ব্যবসায়ীর সংখ্যা কমছে। চামড়াপট্টির শেষ দোকানটি বন্ধ হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। বর্তমানে পট্টিতে একটিও চামড়ার দোকান নেই। সারা বছর কসাইখানা থেকেই চামড়া বিক্রি করে দেয়া হয়। মাংসের দোকানে স্বল্প পরিসরে চামড়া সংরক্ষণ করা হয়।