বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব রাজনৈতিক দলকে নীতিগত ঐক্যে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, আমি বলি না যে, আমরা সব বিষয়ে একমত হব। তবে নীতিগত বিষয়ে আমাদের এক হতে হবে। ঐক্য মানে এই নয় যে, ন্যায়-অন্যায়—ওপর থেকে যা কিছুই আসুক না কেন, সবকিছুতে একমত হতে হবে। অনৈক্য দিয়ে এ দেশে বারবার বাকশাল কায়েম করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে ‘সবার আগে সার্বভৌমত্ব’ শিরোনামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভাটি আয়োজন করে সাস্টেইনেবল সুভেরিন বাংলাদেশ ফোরাম।

সভায় আব্দুল মঈন বলেন, অনেকে জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছেন, কিন্তু জাতীয় সরকার গঠন করতে চাইলে তো স্বৈরাশাসককেও নিতে হবে। তাহলে জাতীয় সরকার কীভাবে হবে? স্লোগান দিয়ে রাজনীতি হতে পারে, সঠিক দেশ গঠন নয়। বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা আকাশচুম্বী। বর্তমান সরকারের ১০০ দিন পার হয়ে গেছে। স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, কিন্তু তাতে বাংলাদেশের মানুষের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে বলে আমি মনে করি না। এটা সংগ্রামের প্রথম অধ্যায়।

সংস্কার প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট কারো কাজ নয় দাবি করে মঈন খান বলেন, সংস্কার সভ্যতার ঊষালগ্ণ থেকে শুরু হয়েছে। সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া। আজকে সরকার যে সংস্কারের কথা বলছে, এ সংস্কার তো আগামীকাল আবারো হতে পারে। তারা যদি বলে, আমি যে সংস্কার করব, পরবর্তী ১০০ বছর বাংলাদেশ এ সংস্কারের ওপর বসে থাকবে, সেটা হতে পারে না। আমি এ সংস্কার শেষ করব, তারপর গণতন্ত্র আনব—এটা কোনো কাজের বা যুক্তির কথা হতে পারে না। সরকার অবশ্যই সংস্কার করবে। এটি সবসময় চলতে থাকবে। এতে কোন সরকার আসল, কোন প্রজন্ম আসল, কে মন্ত্রিসভায় থাকল না থাকল, এটা কোনো বিষয় নয়। সংস্কার তো থেমে থাকবে না।

সভায় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য না থাকলে সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা কঠিন। আমাদের এমন একটা রাজনৈতিক বন্দোবস্ত করতে হবে, যেখানে জনগণই ক্ষমতার অংশ হবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য এবং জবাবদিহিতা তৈরি হবে। অভ্যুত্থান সে রায় দিয়েছে। তা না হলে, সেনাবাহিনী, জনপ্রশাসন, শিক্ষাব্যবস্থা কোনো কিছুই তৈরি হবে না। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এসব প্রতিষ্ঠান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড় করাতে হলে ক্ষমতা ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনতে হবে। যেটা ৭২ এর সংবিধানে ছিল না। যেটা গত ৫৩ বছরে আরো ভয়ংকর রূপ দেয়া হয়েছে। আইনগুলো ধীরে ধীরে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার সমস্ত ক্ষমতা আইনের মধ্যেই রয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসাসেবা এখনো নিশ্চিত করতে না পারায় সরকারের সমালোচনা করে জোনায়েদ সাকি বলেন, আহতরা হাসপাতালে কাতরাচ্ছে, এটা তিন মাস পরেও বলতে হচ্ছে এবং আহতদের আন্দোলন করতে হচ্ছে, এটা কী রকম সরকার! এখানে আমলাতন্ত্র আছে আমরা জানি, এ রাষ্ট্র পুরোটাই ফ্যাসিস্টরা ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। কিন্তু আপনারা তো (অন্তবর্তী সরকার) বসেছেন জনগণের সম্মতিতে, আপনাদের কর্তৃত্বের উৎস বাংলাদেশের জনগণ। তাহলে আপনারা পারেন না কেন? যারা দায়িত্ব পালন করতে পারবে না, অবহেলা করবে, তাদেরকে বিদায় করার ব্যবস্থা করতে হবে, সে ক্ষমতা আপনাদের দেয়া হয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কথা বলে হাসপাতালে আহত যোদ্ধা কাতরাবে, এটা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা কার্যকর ব্যবস্থা দেখতে চাই।

সংস্কার ও নির্বাচন পরস্পরবিরোধী নয় মন্তব্য করে সাকি বলেন, বাংলাদেশের সামনে দক্ষিণ বিশ্বের নেতৃত্বস্থানীয় দেশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেটাই আমাদের জাতীয় লক্ষ্য হওয়া উচিৎ।