সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তার স্ত্রী, পরিবার ও তাদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবও ফ্রিজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেশের সব ব্যাংকের প্রতি এ নির্দেশনা দেয়া হয়।
এর আগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের ব্যাংক হিসাবও ফ্রিজ করা হয়। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেকের স্ত্রী ও সন্তানদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার পাশাপাশি লেনদেনের পূর্ণ বিবরণ তলব করা হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে এসব মন্ত্রীর সবাই আত্মগোপনে রয়েছেন।
গতকাল বিএফআইইউর নির্দেশনায় বলা হয়, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খান, ছেলে সাফি মুদ্দাসির খান ও মেয়ে সাফিয়া তাসনিম খানের নামে থাকা সব ধরনের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক হিসাব স্থগিত থাকবে। চিঠিতে আসাদুজ্জামান খান ও তার পরিবারের নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেয়া হয়েছে।
অন্য এক চিঠিতে জুনাইদ আহমেদ পলক ও তার স্ত্রী আরিফা জেসমিন কনিকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আদেশ দেয় বিএফআইইউ।
বিএফআইইউর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো হিসাব স্থগিত করা হলে হিসাবসংশ্লিষ্ট তথ্য বা দলিল যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী ইত্যাদি চিঠি দেয়ার তারিখ থেকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের কাছে পাঠানোর জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে। লেনদেন স্থগিত করার এ নির্দেশের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর ২৬ (২) ধারা প্রযোজ্য হবে বলে বিএফআইইউর চিঠিতে বলা হয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম ও সন্তান সাম্মাম জুনায়েদ ইফতির ব্যাংক হিসাবও তলব করেছে বিএফআইইউ। তাদের নামে থাকা ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক হিসাবের কেওয়াইসি, অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম, লেনদেন বিবরণীসহ যাবতীয় তথ্য আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।










