বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা চাঁদাবাজি-দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেব না। এ জন্য জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে সর্বত্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমরা ছাত্র-জনতার স্বপ্নের সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

তিনি বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তির ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র বিভক্তির বদলে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করেছে। তাদের সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়েছে। তারা কখনো আনসার লীগ, কখনো রিকশা লীগ, কখনো চাকরি লীগ, আবার কখনো ইসকন লীগ রূপে ফিরে এসে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছি। তারা শেষমেষ ধর্মীয় দাঙ্গার ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু দেশপ্রেমিক জনগণ ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছে।’

শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সিলেট জেলা জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের আমীর বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬ বছর আমরা অনেক ত্যাগ শিকার করেছি, আরো ত্যাগ শিকারে প্রস্তুত। তবুও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাম্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই। পতিত ফ্যাসিবাদী সরকার আমাদের শীর্ষ ১১ নেতাদের কাউকে ফাঁসি দিয়েছে ও কাউকে হত্যা করেছে। জামায়াতের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি এ টি এম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধেও ফাঁসির রায় দিয়েছে। আল্লাহর ফয়সালায় তিনি জীবিত রয়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার পেয়ে তিনি মুক্ত আকাশের নিচে ফিরবেন, ইনশাআল্লাহ।’

আওয়ামী লীগের আগামী নির্বাচনে আসা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘২০০৬ সালে লগি-বৈঠার তাণ্ডবের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বর্বর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল। দীর্ঘ ১৬ বছরে তারা ইতিহাসের বর্বর ও আগ্রাসী শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে গণধিকৃত একটি দলে পরিণত হয়েছে। তাদেরকে (আওয়ামী লীগ) জনগণ চায় কিনা সেটা ২৪-এর শহীদ ও আহতদের এবং তাদের পরিবারকে জিজ্ঞেস করলেই বোঝা যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই দেশ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের দেশ। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ভিন্ন ধর্মের নেতারা বিবেকতাড়িত হয়ে যে ধরনের ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন সে জন্য তাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। তারা প্রতিবেশী দেশকে বলে দিয়েছেন আমাদের নিয়ে আর খেলবেন না আমরা ভালো আছি। আমাদের ভালো থাকতে দিন।’

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াতের আমীর বলেন, ‘বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সবার ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা ছাত্র-জনতার স্বপ্নের সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই। দেশবাসী দীর্ঘদিন বহু ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আগামীর বাংলাদেশ গঠনে প্রয়োজনে আগের থেকেও আরো বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।’ তিনি সবাইকে সকল বৈষম্য, অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘দেশে বিদেশে অনেক ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত হয়েছে জামায়াতের বিরুদ্ধে। সংগঠন হিসেবে আমাদের মতো এত বিশাল ক্ষতির স্বীকার হয়নি আর কেউ। এরপরও আমরা আমাদের নেতাকর্মীদেরকে ধৈর্য ধরে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলাম। সবাই সে ডাকে সাড়া দিয়েছেন। এত ক্ষয়-ক্ষতির পরেও কোনো অপশক্তি কাছে আমাদের মাথা নত করাতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’

সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ফজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মো. ফখরুল ইসলাম।