আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ৫ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এবং কেন্দ্রীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক-সদস্য সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে দলীয় চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করা হয়।
যৌথ সভাশেষে জানানো হয়, ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের কার্যালয়ে দলীয় প্রতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায় দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ এবং বিকাল ৩টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও থাকবে শোভাযাত্রা। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে।
শ্রমিক দলের আলোচনা সভা ৫ নভেম্বর, ছাত্রদলের আলোচনা সভা ৮ নভেম্বর। এছাড়া ৭ ও ৮ নভেম্বর ঢাবির টিএসসিতে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, ৯ নভেম্বর ওলামা দলের উদ্যোগে এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ১০ নভেম্বর তাঁতি দলের আলোচনা সভা, ১১ নভেম্বর কৃষকদলের আলোচনা সভা, ১৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাসাসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ১২ নভেম্বর, চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপির আলোচনা সভা, ৬-১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ডকুমেন্টরি (ভিডিও, স্থিরচিত্র) ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট মিডিয়াসহ ফেসবুক, ইউটিউব, অনলাইনে প্রকাশ এবং ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস নিয়ে পোস্টার ও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।
সভা শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা দেখছি যে বাংলাদেশের শত্রুরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে, মাথা তুলে উঠতে শুরু করেছে। আমরা দেখছি, যতই সময় যাচ্ছে, ততই বাংলাদেশে একটা অ্যানার্কিক সিচুয়েশন, একটা পুরোপুরি নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চলছে। দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা দেখছি, সোশ্যাল মিডিয়াতেও সেই প্রোপাগান্ডা, মিথ্যা প্রচার দিয়ে বাংলাদেশে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করার প্রক্রিয়া চলছে।’
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া যেভাবে তাদের পরিচালিত করেছিলেন তার দীর্ঘ নয় বছরের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে, পরবর্তীকালে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে, সেভাবেই আজ বিএনপির তরুণ নেতা তারেক রহমান দলকে পরিচালিত করছেন। জাতিকে নতুন আশা দেখাচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান যে দর্শন দিয়ে গিয়েছিলেন—বাংলাদেশী জাতীয়তার যে দর্শন—সেই দর্শন কখনো পরাজিত হতে পারে না। আর সে কারণেই বিএনপিও কখনো পরাজিত হয়নি। বারবার জেগে উঠেছে। একেবারে সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতোই বিএনপি জেগে উঠেছে।’
৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘৭ নভেম্বর আমাদের কাছে, গোটা জাতির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন। বিশেষ করে আজকের প্রেক্ষাপটে, যখন মানুষ অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে পড়ে গেছে, প্রতিটি মানুষ বারবার চিন্তা করছে, কী হবে, কী হতে পারে। এই মুহূর্তে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করাই একমাত্র পথ।’









