সংকট নিরসনে শ্রম অধিদপ্তরের ডাকে সাড়া দেননি বাগান মালিকরা। ফলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকরা। আজ মঙ্গলবার শ্রম অধিদপ্তরের শ্রীমঙ্গল অফিসে চা—শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী এনডিসি। বৈঠকে আগামী ২৩ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করার আহ্বান জানান শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী এনডিসি। কিন্তু কোনো বাগানের মালিকপক্ষ বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ায় মহাপরিচালকের কথা রাখেননি চা—শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। তারা কর্মসূচি স্থগিত করবেন না বলে জানিয়ে দেন।
শ্রম অধিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলমান সংকট নিরসনে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খারেদ মামুন চৌধুরী ঢাকা থেকে ছুটে আসেন শ্রীমঙ্গলে। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে শ্রীমঙ্গলের শ্রম অধিদপ্তরের কার্যালয়ে মিটিংয়ে বসেন। মিটিংয়ে শ্রম অধিদপ্তরের শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নাহিদুল ইসলাম, চা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাখন লাল কর্মকার, সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, সাত ভ্যালির সভাপতিসহ অন্তত ৪০ চা—শ্রমিক নেতা বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শ্রমিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন এবং বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদ নেতাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু চুক্তির প্রায় ২০ মাস হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই ৩০০ টাকার মজুরির দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন। শনিবার থেকে গত তিন দিন ধরে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালিত হয়েছে দেশের সবকটা চা বাগানের শ্রমিকরা।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমাদের একটাই দাবি ছিল দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা। কিন্তু বৈঠকেও মালিকপক্ষ কেউ ছিলেন না। আমাদের দাবিও মানা হয়নি। তাই আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখবো।
তথ্য বলছে, দেশে চা বাগান রয়েছে ১৯৬ টি। সিলেট বিভাগে রয়েছে মোট ১৩৯টি চা বাগান। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ২৩টি, মৌলভীবাজারে ৯২টি এবং হবিগঞ্জে ২৪টি। সারা দেশের মতো সিলেট বিভাগের বাগানের শ্রমিকরা কর্ম বিরতি পালন করছেন। এতে দেশের ১৬৭টি চা বাগানসহ ফাঁড়ি বাগানগুলো অচল হয়ে পড়েছে। চায়ের ভরা মৌসুমে চা উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ায় প্রতিদিন বাগানগুলোতে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান বিভিন্ন বাগানের মালিকপক্ষের লোকজন।










