চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেয়ার উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ করেছে চট্টগ্রামের শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

আজ সকাল ১১টা থেকে আগ্রাবাদের আক্তারুজ্জামান সেন্টার প্রাঙ্গণে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতনের সভাপতিত্বে এবং টিইইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য তপন দত্ত। বিশেষ বক্তা ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার।

এছাড়া বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের হেলাল উদ্দিন কবির, বিএলএফ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি নুরুল আবছার তৌহিদ, বিএফটিইউসি চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কে এম শহিদুল্লাহ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, ইব্রাহীম ফরাজী, দেলোয়ার হোসেন, মার্চেন্ট শ্রমিক দল নেতা হারুন এবং বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুসহ শ্রমিক নেতারা।

বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এগুলো দেশী-বিদেশী কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেয়া হলে রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তাদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানে নিজস্ব সক্ষমতায় পরিচালিত হয়ে রাষ্ট্রকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে লাভজনক টার্মিনাল বিদেশী অপারেটরের হাতে তুলে দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বরং বন্দরের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

শ্রমিক নেতারা আরো বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ড বা অন্য কোনো বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে এনসিটি ও সিসিটি পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করা হলে জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা, শ্রম অধিকার এবং বিদ্যমান কর্মপরিবেশ নিয়েও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে।

বক্তারা আরো বলেন, বন্দর কোনো ব্যবসায়িক পণ্য নয়। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। তাই জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো ধরনের ইজারা চুক্তি গ্রহণযোগ্য হবে না।

সমাবেশ শেষে কালো পতাকা মিছিল আগ্রাবাদের বাদামতলি থেকে শুরু হয়ে বারিক বিল্ডিং মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।