গত কয়েকদিনের অরাজক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে
রয়েছেন শিল্প মালিকরা। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে
দ্রুত ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং তিন সামরিক বাহিনী প্রধানের
প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তারা বলেছেন, দেশের অর্থনীতি পুনর্নির্মাণে
অন্তবর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাবে বাংলাদেশের বেসরকারি খাত। বুধবার (৭ আগস্ট)
এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স (আইসিসি), বাংলাদেশের
নেতা ও সদস্যরা।
রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে
সংগঠনের নেতারা বলেছেন, গত দুই দিনের অরাজক পরিস্থিতিকে আরো ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে অপপ্রচার
চালানো হচ্ছে প্রতিবেশী দেশের পক্ষ থেকে। এতে বিদেশী ক্রেতা প্রতিষ্ঠানসহ সারা বিশ্বের
কাছে দেশের ইমেজ সংকট বাড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ছাত্রজনতার জীবনের বিনিময়ে অর্জিত
সাফল্য ম্লান হয়ে যেতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান
হিসাবে ড. মোহাম্মদ ইউনূসকে বেছে নেয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আইসিসি বাংলাদেশের
সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের বেসরকারি খাত অন্তবর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে
হাতে হাত মিলিয়ে দেশের অর্থনীতি পুনর্নির্মাণে কাজ করে যাবে। দীর্ঘদিন ধরে লুটপাটের
কারণে অর্থনীতিতে দুর্বলতা তৈরি হয়েছে, সবাই মিলে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়, তা আলোচনার
মাধ্যমে ঠিক করার উদ্যোগ নিতে হবে।
বাংলাদেশের ব্যংকিং সেক্টরসহ অর্থনীতিকে
শক্তিশালী করতে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে উল্লেখ করে মাহবুবুর রহমান বলেন, বৈদেশিক
মূদ্রা আহরণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত ও জোরদার করতে হবে। মুদ্রাস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে
আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি
বেসরকারিখাত, তাই এই খাতের উন্নয়নে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের পক্ষে সাংবাদিকদের
বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন আইসিসিবি সভাপতি। ১৬ বছর ধরে শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি ব্যবসায়ীদের
নিরঙ্কুশ সমর্থন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, যদি আপনাকে সরকারপ্রধানের
সঙ্গে সভা করার আমন্ত্রণ জানানো হয়, আপনার ঘাড়ে দুই মাথা থাকলে তা উপেক্ষা করতে পারবেন।
আমাদের ঘাড়ে দুই মাথা ছিল না, এক মাথাই ছিল। আমাদের যখন আমন্ত্রণ জানানো হয়, আমরা তা
ফিরিয়ে দিতে পারিনি, আমাকে যেতে হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন,
ব্যবসায়ীরা কয়েক বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার তথা শেখ হাসিনা সরকারের চাপের মধ্যে ছিলেন
কিনা? এর জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, আপনি যে চাপের কথা বলেছেন, সাংবাদিক হিসেবে আপনিও
এত দিন সেই চাপের মধ্যে ছিলেন। যারাই তাদের (আওয়ামী লীগ সরকার) সমর্থন করেনি, তাদের
ওপরেই তারা খড়্গহস্ত হয়েছিল। এ রকম যথেষ্ট প্রমাণ আছে। আমরা তখন চাপের মধ্যে ছিলাম।
গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ব্যবসায়ী
সংগঠনগুলোর ব্যাপক রাজনীতিকরণ হয়েছে এবং সরকারের সঙ্গে মিলে গেছে—
ব্যবসায়ীদের
এই নৈতিক পতন কেন হয়েছে? এ প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, এই সংস্কৃতি বহু পুরনো।
স্বাধীনতার আগে থেকেই তা চলে আসছে। পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে কিছু ব্যবসায়ী তখন সব
সুবিধা নিতেন। এ বঞ্চনার কারণেই আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলাম। এখন ৫০
বছর পর আবার নতুন করে দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়ার সুযোগ এসেছে।
যেসব ব্যবসায়ী গোষ্ঠী দুর্নীতি ও পাচারের
সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের এখন ব্যবসায়ী কমিউনিটিতে ‘নো’ বলবেন কিনা— এ প্রশ্নের জবাবে
মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের নো বা ইয়েসের জন্য তারা অপেক্ষা করে না। যখন যে সরকার
থাকে, তারা তার পক্ষেই স্লোগান দেয়।










