শপিংমল ও মার্কেট খোলা রাখার অনুমতি দেয়ার পরেই খুলনায় সড়ক ও মার্কেটগুলোতে উপচে পড়ছে মানুষ। আজ মঙ্গলবার মহানগরীর ডাকবাংলা মোড় কেন্দ্রিক বাজারগুলোতে মানুষের ঢল নামে। কাপড়ের দোকানগুলোতে দেখা যায় নানা বয়সী মানুষের ভিড়। এর মধ্যে খুলনার অভিজাত নিউ মার্কেট খুলে দেয়ার ঘোষণা এসেছে।

এছাড়া ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য, হার্ডওয়্যার ও স্টেশনারি দোকানেও জনসমাগম বেড়েছে। কোথাও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। আজ সরেজমিনের ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে মহানগরীর ডাকবাংলা মোড়, শপিং কমপ্লেক্স, হার্ডমেটাল গ্যালারি, রেলওয়ে মার্কেট ও ক্লে রোডের দোকানগুলোতে ক্রেতার ভিড়। মটরসাইকেল, রিকশা-ভ্যান ও প্রাইভেটকারের চলাচলে রীতিমতো যানজট তৈরি হয় ডাকবাংলা, পুরাতন যশোর রোড, কেডি ঘোষ রোড, সিমেন্ট্রি রোড ও ক্লে রোড এলাকায়। 

বাজারে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামনে ঈদ, তাছাড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিস্তার রোধে চলাচলে বিধিনিষেধ থাকার কারণে প্রয়োজনীয় জিনিসেরও কেনাকাটা জমে গেছে। আবার আকস্মিকভাবে মার্কেট বন্ধ করে দেয় হয় কিনা ভয়ও আছে মানুষের মধ্যে। এ কারণে এতো মানুষের ঢল।

গত রোববার (১০ মে) থেকে শপিংমল ও মার্কেট খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশানও রয়েছে।

কিন্তু খুলনায় দেখে গেছে, হাতেগোনা কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অধিকাংশতেই  স্বাস্থ্যবিধির ধার ধারছে না কেউ। অতিরিক্ত ভিড়ে সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাও সম্ভব হচ্ছে না। সংক্রমণ রোধে মুখে মাস্ক ছাড়া দোকানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, ফুটপাতে অস্থায়ী দোকান না বসানো ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।

খুলনায় এখন পযন্ত খুলে দেয়া মার্কেটগুলো হচ্ছে, খুলনা শপিং কমপ্লেক্স, দরবেশ চেম্বার ও নিক্সন মার্কেটসহ খুলনা রেলওয় সড়কের ১১টি মার্কেট, খুলনা বিপণিকেন্দ্র, খুলনা বিপণিবিতান ইত্যাদি। এসব মার্কেটে  ক্রেতারা হুমড়ি খেয় পড়েছেন। 

স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই এমন একটি ইলিক্ট্রনিক্স পণ্যের দোকানের বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, দোকানে সাবান-পানি রাখা, স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কিত ব্যানার টানানো, মাস্ক ও গ্লভসের ব্যবস্থা এখনো করা যায়নি। সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে তারপর সামাজিক দূরত্ব মেনে কেনাবেচা করা হবে।

এদিকে আগামীকাল বুধবার থেকে খুলতে যাচ্ছে কেডিএ নিউমার্কেট। এ মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান গোরা বলেন, সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি এবং পুলিশের দেয়া বিধিবিধান মেনে মালিক সমিতির সদস্যরা দোকান খুলতে সম্মত হয়েছেন। এ জন্য মার্কেটে স্বাস্থ্য সম্মত টানেল স্থাপন করা হয়েছে। সব মালিক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলা রাখবেন। মার্কেট প্রাঙ্গণে এরই মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে নকশা করা, গেটে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা  রাখা হয়েছে । ক্রেতাদের অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করে মার্কেটে প্রবেশ করতে অনুরোধ জানানো হয়ছে। ক্রেতা ছাড়া অন্য কেউ যাতে মার্কেটে অযথা  প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, ব্যবসা কেন্দ্র, দোকানপাট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সীমিত রাখতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মার্কেটের সামনে ও ভেতরে মাইকিং করতে হবে। ক্রেতা-বিক্রেতা সবাইকে মাস্ক পরিধান, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।