কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ থেকে রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধিদল শনিবার নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। সেখানে তৈরি করা আবাসন ব্যবস্থা বসবাসের উপযোগী কি না, তা দেখতে যাচ্ছেন তারা।
উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাস করে। সেখান থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে বঙ্গোপসাগর ও মেঘনার মোহনায় জেগে ওঠা ভাসানচরে পাঠানো হবে। এর অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে একটি প্রতিনিধিদলকে সেখানে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টায় ২ নারীসহ ৪০ রোহিঙ্গা নেতা ভাসানচরের উদ্দেশে উখিয়ার কুতুপালং ট্রানজিট শরণার্থী শিবির থেকে রওনা দেয়। এর আগে শুক্রবার রাতে বিভিন্ন শিবিরের রোহিঙ্গা নেতারা সেখানে পৌঁছান। সেখান থেকে তারা মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রামে যান। সেখান থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে করে বেলা আড়াইটার দিকে ভাসানচরের দিকে রওনা হওয়ার কথা।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, সরকারের আশা, রোহিঙ্গা নেতারা ঘুরে এসে বোঝালে শরণার্থীরা ভাসানচর যেতে রাজি হবেন। এ দলের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সহায়তাকারী জাতিসংঘের কোনো সংস্থার প্রতিনিধি বা গণমাধ্যমকর্মী থাকছেন না। তবে আগে থেকে ভাসানচরে আরআরআরসি কার্যালয়ের তিন কর্মকর্তা অবস্থান করছেন।
টেকনাফের নয়াপাড়া, লেদা, শালবাগান ও জাদিমোরা শিবিরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোহিঙ্গা নেতারা তিন-চার দিন আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে শরণার্থী শিবিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখান থেকে তারা সেনা প্রহরায় মাইক্রোবাসে করে উখিয়া রওনা দেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কুতুপালং ট্রানজিট শরণার্থী শিবিরে পৌঁছানোর পর শুক্রবার রাতে তাদের সঙ্গে মাহবুব আলম তালুকদার দেখা করেন। তিনি ভাসানচরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে।
জাদিমোরা শিবিরের মাঝি মো. কালাম হোসেন বলেন, শুক্রবার রওনা দেওয়ার আগে তাদের সবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। শনিবার ভোরে ২ নারীসহ ৪০ জনের একটি দল ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে হয়তো রাতের মধ্যে তারা সেখানে পৌঁছাবেন।
শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের মাঝি জাফর আলম বলেন, ‘ভাসানচর যদি বসবাসের উপযুক্ত হয়, তবে অবশ্যই রোহিঙ্গারা সেখানে যাবেন। আমরা দেখে এলে সবাইকে বোঝাতে পারব। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে তাঁদের দলটি সেখানে যাচ্ছে।’
শরণার্থী শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন-১৬) পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হেমায়েতুল ইসলাম বলেন, পরিদর্শনের পর রোহিঙ্গা নেতারা ভাসানচরে যাওয়ার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদলের তালিকাটি তৈরি করা হয়।
সেনাবাহিনীর রামু-১০ পদাতিক ডিভিশনের মুখপাত্র মেজর ওমর ফারুক বলেন, ভাসানচর দেখতে রোহিঙ্গা নেতাদের আগস্টের শুরুতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। শনিবার ভোরে তাদের সড়কপথে চট্রগ্রাম হয়ে জাহাজে করে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারা মঙ্গলবার সেখান থেকে ফিরবেন।









