জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের কথা বলে তারা ভোট কেনার কৌশল করছেন। কিন্তু আমরা মাঠে নেমে বুঝতে পারছি, মানুষ তাদের অতটা সাড়া দিচ্ছে না। কারণ তারা এর আগেও এমন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি শুনেছে, যা কেউ বাস্তবায়ন করেনি। শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই হয় না। কীভাবে সেটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে, তা নিয়ে আমরা কথা বলছি।’

গতকাল সকালে রাজধানীর শাহজাদপুর বাঁশতলা, নূরেরচালা বাজার, নবধারা সড়ক ও একতা সড়ক এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

এনসিপির আহ্বায়ক অভিযোগ করে বলেন, ‘ঢাকা-১১ আসনে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে এবং আচরণবিধিও মানা হচ্ছে না। এবারের ভোটটা নতুন বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ভোট। এবার একই দিনে গণভোটও হবে। মানুষ যাতে ভোট দিতে ভয় না পায়, সেদিকে আমরা জোর দিচ্ছি। আমরা দেখছি, দেশের বিভিন্ন এলাকায়, এমনকি আমার নির্বাচনী এলাকাতেও একধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার টাঙানো হচ্ছে। অথচ আচরণবিধি মেনে আমরা যে ব্যানার টানাচ্ছি, তাতে আমাদের বাধা দেয়া হচ্ছে; ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। তারা আসলে কোনোভাবেই আচরণবিধি মানছেন না।’

তিনি বলেন, ‘১৬ বছর পর একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মানুষ যাতে এ নির্বাচনে নির্বিঘ্নে-উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে আসে সেজন্য আমরা সচেতন করছি।’

শাপলা কলি মার্কার এ প্রার্থী বলেন, ‘এলাকায় বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। আমরা সেগুলো জনগণের কাছ থেকে শুনছি। এ এলাকায় পানি ও লাইনের গ্যাসের বড় সমস্যা রয়েছে। সকালে গ্যাস চলে যায়, সারা দিন আসে না। পানির সমস্যা নিয়ে ওয়াসায় আবেদন করা হয়েছে। আমি চেষ্টা করব এ সমস্যা সমাধানের।’

মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রকাশ্যে এখানে মাদকের কারবার চলে। তরুণ সমাজ এ মাদকের কবলে পড়ছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা জড়িত। আমরা ঢাকা-১১ আসনের এ এলাকা থেকে মাদক নির্মূলে কাজ করব।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘একটি দলের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলে ব্যস্ত। ভূমি দখল আওয়ামী লীগের আমলেও হয়েছে। এখন সেটা চালিয়ে যাচ্ছে আমাদের যে প্রতিদ্বন্দ্বী দল রয়েছে, তাদের প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা। এ সমস্যা সমাধানেও আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।’

গণসংযোগকালে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। তারা হেঁটে হেঁটে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ও দাবিদাওয়ার কথা শোনেন। একই সঙ্গে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চান।