শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৫ আগস্ট শোক দিবস পালন করতে এসেই বেধড়ক মারধর ও লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের সদস্যসহ সাধারণ মানুষ। এ ঘটনায় সকাল থেকে ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে আওয়ামী লীগ।

বুধবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৭ টার আগে থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে যান। সরেজমিনে দেখা যায়, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দুই পাশে কাটাতারের বেড়া দেয়া আছে। তা ভেদ করে ভেতরে যাওয়ার সুযোগ নেই। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই তল্লাশি করা হচ্ছে। এ সময় অনেকের মোবাইল ফোন তল্লাশি করে মারধর করতেও দেখা গেছে। বিশেষ করে কালো পাঞ্জাবি পরা কাউকে দেখলেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যাচ্ছে।

এদিকে ৩২ নম্বরের মুখে একজনকে মাইকে ঘোষণা দিতে দেখা গেছে। সেখানে বলা হচ্ছে, দুষ্কৃতিকারী কাউকে দেখলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে। 

পান্থপথ থেকে রাসেল স্কয়ার মোড়ে যাওয়ার পথে প্রতিটি গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করতে দেখা যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনেককে বেধড়ক মারধর করতেও দেখা গেছে।

পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলি বণিক বার্তাকে বলেন, সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে যাওয়ার পথে মোড়ে মোড়ে রিকশা থামিয়ে পরিচয় ও গন্তব্য জানতে চেয়েছে  সংঘবদ্ধ কয়েকজন। পান্থপথ মোড়ে পৌঁছে দেখি একজন মানুষের মাথা ফেঁটে রক্ত পড়ছে, এরপরও তাকে পেটাচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল। সেখানে রিকশা না থামিয়ে সোজা পান্থপথের দিকে যেতে গিয়েও মোড়ে মোড়ে লাঠি হাতে পাহারা দিতে দেখি। তারা বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে মানুষকে তল্লাশি করছে।

তিনি আরো বলেন, ইউটার্ন নিয়ে আবার ৩২ দিয়ে ফেরার পথে দেখি একদল লোক যাকে পাচ্ছে তাকেই পেটাচ্ছে। কোনো সাংবাদিক মোবাইল কিংবা ক্যামেরা বের করার সাহসও পায়নি। 

সাংস্কৃতিক কর্মী জেসমিন মোহনা বলেন, আমি আর আমার বন্ধু ৩২ এ যচ্ছিলাম শ্রদ্ধা জানাতে।  ধানমন্ডির রাস্তায় আমাদের হেনস্তার শিকার হতে হয়। এরপর ৩২ এ এসে দেখি নারকীয় অবস্থা। মানুষ মেরে রক্তাক্ত করে ফেলছে। আমাদের রিকশাও থামিয়েছিল। প্রাণে বাঁচতে বলি যে হাসপাতাল থেকে ফিরছি। এই কি মুক্তি? ছাত্ররা কি আমাদের এই দেশ দেয়ার জন্যই এত আন্দোলন করল। আমি ছাত্রদের বলব, সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াতে। আমাদের পরিষ্কার করে দিতে আসলে কীসের জন্য তাদের এ আন্দোলন?

আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা স্কয়ার হাসপাতালে অপেক্ষা করছিলেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফুল দিতে যাবেন। এ সময় তিনি বলেন, বিএনপি-জামাতের ক্যাডারদের হাতে সকাল থেকেই ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছে।

উল্লেখ্য, আজ ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে একদল বিপথগামী সেনাসদস্য ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের এই বাড়িতেই বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে সপরিবার হত্যা করে।