চা শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ঘিরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সিলেট অঞ্চলের বাগানগুলোর ব্যবস্থাপক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ, যত সময় যাচ্ছে ততই বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ছেন আন্দোলনকারীরা। এরই মধ্যে সিলেটের সীমান্তবর্তী জাফলং চা বাগানে হামলা চালানো হয়েছে। মারধর করা হয়েছে বাগানের সহব্যবস্থাপক শামীম আহমদসহ পাঁচ-ছয়জন স্টাফকে। বাগানের ব্যবস্থাপক কামাল হোসেনকেও গত শনিবার সারা রাত জিম্মি করে রাখেন শ্রমিকরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জাফলং চা বাগানের ব্যবস্থাপক কামাল হোসেন জানান, কর্মকর্তা-শ্রমিক সবাই একসঙ্গে কাজ করব। কিন্তু তারা (শ্রমিকরা) আচরণ বদলে হঠাৎ উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠছেন। আমাদের বাগানের সহব্যবস্থাপককে দুই দফা মারধর করেছেন, যেটা খুবই খারাপ রেকর্ড। এমন পরিস্থিতিতে আমরা অনেকটা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।

এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা জানতে বাংলাদেশ চা সংসদের আহ্বায়ক ফিনলে চা কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কেসিন আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে চা সংসদ সিলেট নর্থ ভ্যালির ভাইস চেয়ারম্যান নোমান হায়দার চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা চাই শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকুক। কোথাও যেন মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের ঘাটতি না হয়। তিনি অবশ্য বলেন, জাফলং চা বাগানে ব্যবস্থাপকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কথা এখনো কেউ আমাদের জানায়নি। তবু বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

জানতে চাইলে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাফলং চা বাগানে সহব্যবস্থাপককে মারধরের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ দেখছে। খবর পেয়েই সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। চা শ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে পুলিশ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। যখন যা প্রয়োজন পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

চলমান আন্দোলনে বাইরে থেকে উসকানি দেয়া হচ্ছে মন্তব্য করে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বলছেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাইরের সংগঠন ও লোকজন ঢুকে পড়েছে। নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে শ্রমিকদের ভিন্নপথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে তারা। এ বিষয়ে চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, আন্দোলনে বাইরের লোকজন ঢুকে পড়ায় সাধারণ শ্রমিকরা আর আমাদের কমান্ড মানছেন না। এখন যদি কোনো ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়, অরাজকতা, ভাংচুর বা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়; তবে তার দায়ভার চা শ্রমিক সংগঠনের নেতা হিসেবে আমি নেব না।

এদিকে গতকাল ছিল শ্রমিকদের সাপ্তাহিক হাজিরা বেতন ও রেশন প্রাপ্তির দিন। আন্দোলন চলায় সেই সুবিধা পাননি তারা। ফলে অনেকের ঘরে খাবার ফুরিয়ে গেছে। এ অবস্থায় আন্দোলন চলতে থাকলে শ্রমিকরা আরো হিংস্র হয়ে যেতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবিতে সিলেটসহ সারা দেশের চা শ্রমিকরা ৯ আগস্ট থেকে আন্দোলনে নেমেছেন। এর মধ্যে ১১ আগস্ট পর্যন্ত তারা ২ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন। কিন্তু মালিকদের সাড়া না পেয়ে তারা ১৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন, যা এখনো চলছে। যদিও শনিবার শ্রীমঙ্গলের শ্রম অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তাতে সাড়া না দিয়ে আগের দাবিতেই অনড় চা শ্রমিকরা।