অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে টেকনাফের বাহারছড়ার অদূরে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল গভীর সাগর থেকে ভাসমান অবস্থায় ৪৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময় জোয়ারের পানিতে বাহারছড়া সৈকতে ভেসে এসেছে তিন রোহিঙ্গা তরুণীর মরদেহ। তারা ডুবে যাওয়া ট্রলারের যাত্রী ছিলেন বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
জানা যায়, অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে সোমবার মধ্যরাতে টেকনাফ সাগর উপকূলে রোহিঙ্গাদের বহনকারী একটি ট্রলার ডুবে যায়। ওই ট্রলারে থাকা ৩১ জন গতকাল সকালে সাঁতার কেটে টেকনাফের বাহারছড়া সৈকতে ফেরেন। পরে পুলিশ ও কোস্টগার্ড তাদের হেফাজতে নিয়েছে। ট্রলারডুবির ঘটনায় দুপুর পর্যন্ত চার দালালসহ ৪৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে আটজন নারী। তবে ট্রলারটিতে ৮৫ জন যাত্রী ছিল বলে জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা।
এ তথ্য নিশ্চিত করে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নুর মোহাম্মদ বলেন, সাগরপথে মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গাবোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় ভেসে আসা তিন তরুণীর মরদেহ বাহারছড়ার মনতলী-উত্তর শীলখালীর সমুদ্রতীর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সমুদ্রের লবণপানি খেয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া জীবিত উদ্ধার হওয়া ৪৫ রোহিঙ্গা বর্তমানে পুলিশ ও কোস্টগার্ডের হেফাজতে রয়েছে। মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন বাহারছড়া সৈকতের বাইন্যাপাড়ার ঝাউবাগানের ভেতরে তাদের রাখা হয়েছে।
এদিকে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা জানান, অবৈধভাবে সাগরপথে ট্রলারে চড়ে রোহিঙ্গারা মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। সেখানে ভালো চাকরির প্রলোভন দিয়ে দালাল চক্র তাদের কাছ থেকে মাথাপিছু ২০ থেকে ৪৫ হাজার করে টাকা নিয়েছিল। তাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য গভীর সমুদ্রে একটি বড় জাহাজ অপেক্ষা করছিল বলে জানানো হয়। ওই জাহাজে ওঠানোর কথা বলেই তিনদিন আগে দালাল চক্র একশর মতো রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে উখিয়ার কুতুপালং, লম্বাশিয়া, বালুখালী, মধুরছড়া ক্যাম্প থেকে গাড়িতে তুলে টেকনাফের বাহারছড়া গ্রামে নিয়ে আসে। সোমবার মধ্যরাতে বাহারছড়া সৈকতের বাইন্যাপাড়া ও হলবনিয়া এলাকায় নিয়ে তাদের একটি ট্রলারে ওঠানো হয়। তবে সাগর উত্তাল থাকায় সেটি দুলছিল, কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে ঢেউয়ের ধাক্কায় ডুবে যায়। এ সময় কিছু রোহিঙ্গা প্লাস্টিকের গ্যালন, কাঠের তক্তায় ভেসে ও সাঁতরে উপকূলে উঠতে সক্ষম হন। তবে অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।










