বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘যারা বলছে ফেব্রুয়ারিতে ভোট হবে না, সেটা তাদের বিষয়। কিসের ভিত্তিতে কিংবা কোন ক্ষমতাবলে তারা বলছে ভোট হবে না, সেটা বিএনপির জানা নেই। আমরা যতটুকু জানি (আগামী ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন হবে, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিয়েছে।’
গতকাল নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। সে সময় নির্বাচন হলে—যারা শহীদ হয়ে কবরে আছেন, তাদের জীবন ফিরিয়ে দিতে হবে। আর যে ভাইটি হাত হারিয়েছেন, তার হাত ফিরিয়ে দিতে হবে।’
ইসির প্রস্তুতি নিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ইসি তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি যথাযথভাবে নিচ্ছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের কিছু উদ্বেগ আছে। বিএনপিও মনে করে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা দুর্বল হয়েছে, কিন্তু নির্বাচন কয়েক মাস পরে হওয়ায় এই সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তারা আশাবাদী। ইসি জানিয়েছে, প্রয়োজনে তারা নির্বাচনে অধিক সংখ্যক সেনা সদস্য এবং সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ করবে। বিএনপিও রাজনৈতিক দল হিসেবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে।’
জোটের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো তফসিল ঘোষণা না হওয়ায় এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। যারা যুগপৎ আন্দোলনে একসাথে কাজ করেছেন, তারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে একসাথে কাজ করবেন।’
প্রবাসীদের ভোটের প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যাদের এনআইডি ও ই-পাসপোর্ট আছে, তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বিএনপি সাধারণ পাসপোর্টধারীদেরও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ভুয়া পাসপোর্টধারীদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করার পরামর্শ দিয়েছে।’
সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রসঙ্গে বিএনপির এ বর্ষীয়ান নেতা বলেন, ‘ইসি নির্বাচনী এলাকার ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জেলা ও উপজেলার অখণ্ডতা এবং ভোটার সংখ্যাকে মূলনীতি হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে সীমানা নির্ধারণের কাজ করছে। আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ জানানোর সুযোগ নেই। কেবল সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরাই অভিযোগ জানাতে পারেন।’










