বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে চরম নির্যাতন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি এর বিচার চান। গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ দাবি জানান।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘কারাগারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চরম নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারের যে কক্ষে রাখা হয়েছে, সেই কক্ষে ইঁদুর দৌড়াদৌড়ি করত, পোকামাকড় দৌড়াদৌড়ি করত। কয়েকজন ডেপুটি জেলার ও জেলার অন্যায়ভাবে তাকে ছাদের ওপরে একটি কক্ষে রেখেছিল। আজ আমি এ অনুষ্ঠান থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জেলজীবনে তার ওপর যে অত্যাচার হয়েছে, যে নির্যাতন হয়েছে, কারা কারা এর জন্য দায়ী তাদের সবার বিচার হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

বিএনপির দুর্দিনে দলের নেতৃত্ব দিয়ে খালেদা জিয়া যে ভূমিকা রেখেছেন তা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা যারা কয়েকজন তাদের সঙ্গে কাজ করেছি তারা নানা চাপের মধ্যে দেশনেত্রীর দৃঢ় মনোবল দেখেছি। গণতন্ত্রের প্রশ্নে তার আপসহীন নেতৃত্ব ও নেতাকর্মীদের প্রতি তার যে ভালোবাসা ও স্নেহ, তা তুলনাহীন।’

নয়াপল্টনে গতকাল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে এ মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে এ মিলাদ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রাজধানীতে বিভিন্ন মসজিদে ও এতিমখানা-মাদ্রাসায় বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্মদিন উপলক্ষে এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়েছে।

ঢাকা ছাড়াও সারা দেশে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দলের চেয়ারপারসনের আরোগ্য কামনায় মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রিজভীর সঞ্চালনায় নয়াপল্টনের মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান বক্তব্য রাখেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমান উল্লাহ আমান, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, মীর সরাফত আলী সপু, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সাইফুল আলম নিরব, আসাদুল করীম শাহিন, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল অংশ নেন।