নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে কক্সবাজার পৌর এলাকাকে ফের অবরুদ্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ফলে আজ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত পৌর এলাকা লকডাউনের আওতায় থাকবে।
গতকাল বিকালে ভাইরাস প্রতিরোধসংক্রান্ত জেলা কমিটির জরুরি সভায় জেলার সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন কক্সবাজারের ডিসি মো. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, পুরো কক্সবাজার পৌরসভাকে রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সময়ে সবাইকে যার যার বাসায় অবস্থান করতে হবে। বন্ধ থাকবে সব ধরনের ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লকডাউন চলাকালে কাঁচা বাজার ও মুদি দোকান কেবল রবি ও বৃহস্পতিবার দিনের ৮ ঘণ্টার জন্য খোলা রাখা যাবে। অন্য সব দোকান ও হাট-বাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। তবে ফার্মেসি বিধিনিষেধের আওতায় থাকবে না।
কক্সবাজার শহরে প্রতিদিনই বাড়ছে কভিড-১৯ শনাক্তের সংখ্যা। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ৮৭৭ জন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৬৪ জন রোগী কক্সবাজার সদর উপজেলার। এছাড়া মহেশখালীতে ৩৪ জন, টেকনাফে ৪১ জন, উখিয়ায় ১১০ জন, রামুতে ৫৩ জন, চকরিয়ায় ১৮৯ জন, কুতুবদিয়ায় তিনজন ও পেকুয়ায় ৪৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও বাড়ছে করোনাভাইরাসের প্রকোপ। সেখানে এ পর্যন্ত ৩৫ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
রেড জোনের ভেতরে কক্সবাজার পৌর এলাকায় লকডাউন চলাকালে কী কী বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে তা জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে জেলা প্রশাসন । নির্দেশনাগুলো হচ্ছে: ‘এক. সব ধরনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা থাকবে। সবাইকে অবশ্যই যার যার বাসায় অবস্থান করতে হবে। দুই. সব ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বহনকরী হালকা ও ভারী যানবাহন রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। কভিড-১৯ মোকাবেলার কাজে নিয়োজিত বেসরকারি গাড়ি চলাচলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে হবে। অ্যাম্বুলেন্স, রোগী পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের বহনকারী গাড়ি, জরুরি সেবার গাড়ি বিধিনিষেধের আওতার বাইরে থাকবে। তিন. সব ধরনের দোকান, মার্কেট, বাজার, হাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। কেবল রবি ও বৃহস্পতিবার কাঁচা বাজার ও মুদি দোকান স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। ওষুধের দোকান নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। চার. কেবল জরুরি সেবা এবং কডিভ-১৯ নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খোলা থাকবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে কেবল রবি ও বৃহস্পতিবার। তবে হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং কভিড ১৯ মোকাবেলায় পরিচালিত ব্যাংকিং সেবা এর আওতার বাইরে থাকবে। পাঁচ. জরুরি সংবাদ সংগ্রহের জন্য নির্বাচিত সংবাদকর্মীদের রেড জোনে কাজ করার ক্ষেত্রে কক্সবাজার প্রেস ক্লাব থেকে ছবিযুক্ত বিশেষ পরিচয়পত্র নিয়ে দৃশ্যমান অবস্থায় গলায় ঝুলিয়ে রাখতে হবে। কভিড-১৯ মোকাবেলায় রেড জোনে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীদের কক্সবাজার সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছ থেকে ছবিযুক্ত বিশেষ পরিচয়পত্র নিতে হবে এবং একইভাবে দৃশ্যমান অবস্থায় গলায় ঝোলাতে হবে। ছয়. সব ধরনের পরিবহন টার্মিনাল রেড জোনের বাইরে স্থানান্তর করতে হবে। সাত. প্রকাশ্য স্থানে বা গণজমায়েত করে ত্রাণ, খাদ্যসামগ্রী বা অন্য কোনো পণ্য বিতরণ করা যাবে না।’










