স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ সব কর্মকর্তার অপসারণসহ দুই দফা দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছে স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল সংগঠনের ব্যানারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসকরা (বিসিএস-স্বাস্থ্য)। দ্রুততম সময়ে তাদের দাবি না মানা হলে বৃহত্তর কর্মসূচীতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। 

আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের দাবি, গত ১৫ বছরে আওয়ামী শাসনামলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে অবৈধ নিয়োগ ও পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এতে মহাপরিচালকসহ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অপসারনের দাবি করেন তারা। চিকিৎসকদের দুই দফার মধ্যে রয়েছে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং অবৈধ নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন বাতিল করা। 

এতদিন ছয় দফা দাবি থাকলেও এখন তা দুই দফায় এসেছে বলে জানিয়েছেন বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব ডা. উম্মে তানিয়া নাসরিন। তিনি বলেন, ‘এডহক কর্মকর্তাদের অবৈধ স্থায়ীকরণ বাতিলসহ আমাদের দাবি ছয় দফা ছিল। তবে এখন আমরা দুই দফা দাবি বাস্তবায়নে আন্দোলনে নেমেছি। প্রথম দফা হচ্ছে—শতাধিক অবৈধ পদায়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাদের বৈধতা দেয়ায় মহাপরিচালক ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ। দ্বিতীয় দাবি, সব ধরনের অবৈধ পদোন্নতি, নিয়োগ বাতিল করা।’ 

এদিকে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে পর গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। কয়েকজন পরিচালক নিয়মিত অফিসে আসছেন না। মহাপরিচালক ও দুই অতিরিক্ত মহাপরিচালক কার্যালয়ে এলেও কার্যক্রমে স্থবিরতা কাটছে না। কোনো শাখায়ই শতভাগ কর্মকর্তা হাজির হচ্ছেন না। অন্তত অর্ধেক কর্মকর্তা সকালে অফিসে এলেও দুপুরের পর থাকছেন না। কেউ কেউ সকালে না এসে দুপুরে হাজিরা দিচ্ছেন। 

গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে (নতুন ভবন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলায় মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবিরের কক্ষে তালা। তবে তারা সোমবারও অফিস করেছেন। অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার অফিস খোলা। তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা জানান, তিনি সচিবালয়ে জরুরি সভায় গেছেন। কখন আসবেন তা নিশ্চিত নয়। মহাপরিচালকের কার্যালয়ের কোনো কর্মচারী তার অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেননি। বন্ধ পাওয়া গেছে জনসংযোগ দপ্তরও। তৃতীয় তলায় পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. হারুন-অর-রশীদের কার্যালয়। গতকাল দুপুর পর্যন্ত তিনি অফিসে আসেননি। তার কার্যালয়ের কর্মরতা জানান, তিনি সোমবারও অফিসে এসেছেন। কিন্তু গতকাল দুপুর পর্যন্ত আসেননি।