জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘লন্ডনে সেজদা দিয়ে নির্বাচনের রোডম্যাপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এটি ঠিক হয়নি। অথচ তাকে জনগণের কাছে সেজদা দেয়ার কথা ছিল। এখনো সময় আছে কেবলা পরিবর্তন করে জনগণের কাছে যাওয়ার। দেশে সংকট নিরসন করতে হলে একমাত্র সমাধান গণপরিষদের নির্বাচন। বিএনপির ৬০ শতাংশ জনসমর্থনের দাবি এক ধরনের আস্ফালন।’
গতকাল বিকালে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনও লন্ডন ও গুলশানে সেজদা দিচ্ছে। আবার এক মাস সময় বাড়ানো হয়েছে। তা হতে পারে না। এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।’
দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘যাকে গণ-অভ্যুত্থানের পর সরকারপ্রধান বানানো হয়েছে উনি লন্ডনে গিয়ে সেজদা দিয়ে এসেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোনো ঘটনা আছে কিনা, অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান একটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে প্রেস কনফারেন্স করছেন।’ তিনি দাবি করেন, সেদিনই সরকারকে লন্ডনে ‘বিক্রি করে’ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘এনসিপি আসন ভাগাভাগির রাজনীতিতে যাবে না। আমাদের আসন দিয়ে কেনা যাবে না, আমরা বিক্রি হতে আসিনি। আসন ভাগাভাগি বা সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন মানে হবে মধ্যরাতের ভোটের পুনরাবৃত্তি। আমরা বিএনপি বা অন্য কোনো দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করব না। জনগণের সামনে বিকল্প থাকতে হবে। আগের মতো ওসিনির্ভর বা প্রশাসননির্ভর নির্বাচন আমরা চাই না। আমরা বিক্রি হতে আসিনি। আসন দিয়ে আমাদের কেনা সম্ভব নয়। নতুন বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। জনগণের আস্থা থাকলেই আমরা টিকে থাকব।’
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ‘নতুন সংবিধান প্রণয়নকে বাধাগ্রস্ত করলে রাজপথে নামতে এক সেকেন্ডও লাগবে না। এখন পর্যন্ত জুলাই সনদের ফাইনাল মতামত পাইনি। এ বিষয়ে ইউনূস সরকার পাশ কাটিয়ে গেছেন।’
এখন পর্যন্ত ২০টি বিষয় নিয়ে কমিশনে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে আখতার বলেন, ‘আমরা যখন ঐকমত্য কমিশনে দ্বিতীয় দফার বৈঠকগুলো শুরু করি, তখন সংস্কার প্রস্তাবগুলো কমিশন যেভাবে উপস্থাপন করেছে ঠিক সেভাবে যেন গ্রহণ করা হয় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য তৈরি হয়, সে ব্যাপারে কমিশনের জোর প্রচেষ্টা লক্ষ্য করেছি। কিন্তু যখনই সংস্কারের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের বিষয় উত্থাপন করা হল, কমিশন কাদের চাপে পড়ে যেন ম্রিয়মাণ হয়ে গেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘শেষদিনের আলোচনায় উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে আমরা সবাই কমিশনের কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে যেন আলোচনা করা হয় সে বিষয়ে দাবি জানাই। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে, শুধু একটি পক্ষের সঙ্গে বসে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত যেন না গ্রহণ করা হয়, সে ব্যাপারে আমরা সেখানে বলেছি।’










