বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক ও সরকারি প্রেক্ষাপটে আগামী দিনগুলোতে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবিকার ব্যবস্থা করা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
গতকাল বিকালে সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ সিজিএস আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য মুক্ত আলোচনা ও তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান।
আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেকারত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও এর বাস্তব চিত্র অর্থনীতির পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত বেকারত্বের ধারণার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বর্তমানে বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বহুমাত্রিক ও বৈচিত্র্যময়। যদিও বর্তমানে ৪.৬৩ শতাংশ বেকারত্বের হারকে অর্থনীতির পাঠ্যপুস্তকের সংজ্ঞায় ততটা বড় সংকট হিসেবে দেখছি না। তবে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ছদ্ম বেকারত্বের মতো জটিল বাস্তবতার কারণে তরুণ সমাজ বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ, সমাজবিদ ও রাজনীতিবিদদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে।’
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বলছে দেশে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যসীমার নিচের মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এগুলো কিন্তু কোনো ভালো লক্ষণ নয়। যা দেখা যাচ্ছে সেটা খুবই উদ্বেগজনক।’
অর্থনীতিবিদ ড. সায়েমা হক বিদিশা বলেন, ‘আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কাজ শুরু করেছি, যেখানে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে কোলাবরেশন করে শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারে অন্তর্ভুক্ত করছি। শহর এলাকায় ডে-কেয়ার সেন্টার ও নারীদের কর্মসংস্থানের ওপর একটি বিশেষ ভূমিকা রাখে। এগুলোর ওপরও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘পরিসংখ্যান বলে চাকরির অভাব, কিন্তু বাস্তবতা বলে দক্ষ কর্মক্ষমতার অভাব। একজন এসএসসি পাস গ্রাফিকস ডিজাইনারও একজন গ্র্যাজুয়েটের চেয়ে বেশি আয় করছে। আমরা অনেক অনেক তরুণকে গ্র্যাজুয়েট হিসেবে তৈরি করছি, কিন্তু তাদের কোথায় পাঠাচ্ছি সেটা নিয়ে আমাদের ভাবনা নেই। অনেকে ভাষা না জেনে বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। তাদের তৈরি করতে হলে আমাদের কী করতে হবে সেই বিষয়ে ভাবা দরকার, ভাষা শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। এখন এআই ও রোবোটিকসের যুগ। আমাদের দরকার অনেক বেশি প্রযুক্তির ভাষা জানা, এগুলো দিয়েই ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।’
অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ পারভেজ ইমদাদ, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারওয়ার তুষার, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কো-অর্ডিনেটর দিদারুল আলম ভূইয়া, সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী, অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান প্রমুখ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।










