শুরুতে নোয়াখালীর ভাসানচরে যেতে আপত্তি জানালেও এখন স্থানান্তরে আগ্রহী রোহিঙ্গার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। কক্সবাজারে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার জানিয়েছেন, ছয় থেকে সাত হাজার রোহিঙ্গা এরই মধ্যে সম্মতি জানিয়েছে। এ সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

গতকাল তিনি জানান, টেকনাফের জাদিমোরা ও শালবাগান রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে রোববার পর্যন্ত সাড়ে চার শতাধিক পরিবারের একটি তালিকা তাদের হাতে পৌঁছেছে। ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের প্রাথমিক তালিকা জমা নেয়া হচ্ছে, সেটি এখনো চলমান।

কবে নাগাদ এ স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে, সে ব্যাপারে কিছু জানাননি মাহবুব আলম। তবে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের বসতি নির্মাণের দায়িত্বে থাকা নৌবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বর থেকে স্থানান্তর শুরু হতে পারে। দৈনিক ৫০০ শরণার্থীকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের সময় প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। কক্সবাজারে আগে থেকেই আশ্রিত দুই লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এরই মধ্যে সবক’টি আশ্রয় শিবিরের ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে।

সরকার গত বছর থেকেই নোয়াখালীর ভাসানচরে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে। তবে মাত্র দুই দশক আগে বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা এ চরের বাস উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকার কর্মীরা। জাতিসংঘ জোর করে কাউকে ভাসানচরে না পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে।

শরণার্থী কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, বসবাসের ব্যবস্থা চাক্ষুষ দেখাতে রোহিঙ্গা নেতাদের ভাসানচরে নেয়া হতে পারে। সেখানে সাইক্লোনের আঘাত থেকে জনবসতি সুরক্ষিত রাখতে চারপাশে নয় ফুট উঁচু বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এক মাসের সুপেয় পানি মজুদ রাখার জন্য রয়েছে ওয়্যারহাউজ।

কক্সবাজারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ভাসানচরে যেতে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে এখন বেশ সম্মতি পাওয়া যাচ্ছে। এটি অবশ্যই ভালো লক্ষণ। তবে যে তালিকা হাতে পেয়েছি, সেটি এখনো চূড়ান্ত নয়। এখন পর্যন্ত টেকনাফের শালবাগান ২৬ নম্বর থেকে ১০২ পরিবার ও জাদিমোরা ২৭ নম্বর থেকে ৩৫০ পরিবারের তালিকা পাওয়া গেছে। সবগুলো শিবিরের রোহিঙ্গা নেতাদের মাধ্যমে কাজ চলছে।

শালবাগান রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে দলনেতা (মাঝি) রমিদা বেগম ও জাদিমোরার নবী হোসেন বলেন, বেশকিছু পরিবার ভাসানচরে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বিষয়টি রোহিঙ্গাসংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ভাসানচরে উন্নত আবাসস্থল থাকার বিষয়টি রোহিঙ্গাদের ভালো করে বোঝানো গেলে সেখানে আগ্রহীর সংখ্যা আরো বাড়বে বলে মনে করেন তারা।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি জাদিমোরা ক্যাম্পের খালেদ হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যেতে সরকার আগে থেকেই কাজ করে আসছিল। কেউ স্বেচ্ছায় রাজি না হওয়ায় বিষয়টি