সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও করোনার টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ রবিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে সদর জেনারেল হাসপাতালে প্রথম টিকা গ্রহণ করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ।
টিকা গ্রহণ শেষে সিভিল সার্জন জানান, টিকা গ্রহণের পর ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনিসহ অন্যদের কারো শারীরিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি। সকল ভীতি উপেক্ষা করে সর্বসাধারণকে টিকা গ্রহণ করতে জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল আমিন, জেলা করোনা ফোকাল পার্সন ডা. জাহিদুল ইসলাম ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জেলা সার্ভিলেন্স অফিসার ডা. ফারহানা রহমানসহ জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা। দুপুরে জেলা প্রশাসক, জেলা সিভিল সার্জন ও জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা নগরীর খানপুরে কভিড ডেডিকেটেড নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসাপাতালে টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
গণটিকা কার্যক্রমের প্রথম দিন পুরো জেলায় ৬০০ জনের লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত। জেলায় প্রথম পর্যায়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার করোনার টিকা (ভ্যাকসিন) কোভিশিল্ড এসেছে। এই ডোজ নিবন্ধিত ৭৮ হাজার ব্যক্তিকে চার সপ্তাহের ব্যবধানে দু’বার দেয়া হবে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থিত কোভিড ডেডিকেটেড ৩শ’ শয্যা হাসপাতাল ও সদর জেনারেল হাসপাতাল ছাড়া আরো চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকাদান কেন্দ্র খুলে কোভিড ১৯ এর ভ্যাকসিন টিকা প্রদান কার্যক্রম একযোগে শুরু হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে আগেই করোনার টিকা পৌঁছে দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাদের সহযোগিতায় রয়েছে আছেন রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবী কর্মীরা। টিকা দেওয়ার ব্যাপারে তাদেরকেও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন সবাইকে নিবন্ধন করার আহবান জানিয়ে বলেন, নিবন্ধিত ব্যক্তি ব্যতীত কাউকে টিকা প্রদান করা হবে না। তাই ৫৫ বছরের অধিক ব্যক্তিদের দ্রুত নিবন্ধত করার তাগিদ দেন তারা। তবে এ ব্যাপারে জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এদিকে টিকা গ্রহণের পর কোন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি জানিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সাধারণ মানুষ।










