বরিশাল-৫ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মনীশা চক্রবর্ত্তী। আসন্ন নির্বাচন, ভোটের মাঠের পরিস্থিতি ও নিজ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এম মিরাজ হোসাইন
নির্বাচন নিয়ে আপনার ভাবনা বলুন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর এটিই প্রথম নির্বাচন। এ নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। মানুষের প্রত্যাশা যে একটা বদল হবে। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, তাতে মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আস্থাশীলতার জায়গা তৈরি হয়নি। এ প্রশাসন ভোট কেন্দ্রে নেতৃত্ব দিতে পারবে, মানুষ তেমন কোনো সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে না। আর আমরা ছাড়া আর কেউ আচরণবিধি মানছেও না।
কোথায় কোথায় আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে বলে আপনি মনে করেন?
আমরা এখানে প্যানাফ্লেক্সের ফেস্টুন দেখতে পাচ্ছি। বরিশাল সদর গার্লস স্কুলের মতো জায়গায় আমরা দেখতে পাচ্ছি যে দেয়ালের মধ্যে ব্যানার টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণরূপে আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং গতকালকে একজন প্রার্থী একটি কলেজে গিয়ে বাস উপহার দেয়ার কথা বলে ভোট চেয়েছেন। এটিও স্পষ্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন। এখন প্রশাসন যদি আচরণবিধি রক্ষার জন্য উদ্যোগ না নেয়, ভোট চুরি ঠেকানোর ক্ষেত্রে তারা কী উদ্যোগ নেবে, তা আমাদের কাছে পরিষ্কার না। আবার যে জনপ্রতিনিধিরা এখনই আইন মানেন না, তারা ক্ষমতায় গেলে কতটা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন বা করবেন সেটি নিয়েও জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
আপনার নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে বলুন।
আমরা কোনো কৌশলে বিশ্বাসী না। আমরা খুব সাধারণ কর্মপন্থায় বিশ্বাসী। আমরা মানুষের জীবনের সংগ্রাম নিয়ে রাজপথে নেমেছিলাম। আমরা মনে করি, সেই সংগ্রামই আমাদের বড় কৌশল। জনগণের মধ্যেই আমরা ছিলাম। জনগণের জীবনের সংগ্রামের সঙ্গে আমরা ছিলাম। সামনেও থাকব। ফলে আমরা মনে করি যে আমাদের কোনো কৌশলের প্রয়োজন নেই। জনগণের পক্ষে থাকাটাই আমাদের রাজনীতির বড় কৌশল।
নির্বাচিত হলে এখানকার শিক্ষা-স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
ভোলার গ্যাস দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষিভিত্তিক শিল্প তৈরি করা—এসব বিষয় নিয়ে আমরা ধীরে ধীরে ধারাবাহিক আন্দোলন করেছি। এগুলোই আমরা করব। আমরা প্রত্যেক ইউনিয়নে কয়েকটি কেন্দ্র খুলে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করার কথা বলেছি, যাতে মধ্যস্বত্বভোগী ও ফড়িয়াদের একটি নির্দিষ্ট দামেই ধান কিনতে হয়। এর কমে যাতে তারা কিনতে না পারে। আমরা আরো বলেছি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে কৃষক এবং জেলেরা তাদের আহরিত সম্পদ সহজে রফতানির মতো সেবা পেতে পারে। আমরা বলেছি নারীবান্ধব নগরীর কথা। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে আমরা একবারে ইউনিয়ন পর্যায়ে হেলথ সাবসেন্টারগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার কথা বলেছি। আমরা এমন করে প্রতিটি জায়গায় আমাদের আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে থেকেই আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলো জনগণের সামনে হাজির করছি।









