আগামীতে মধ্যপন্থী রাজনীতি বিপদের সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচন আগে নাকি সংসদ নির্বাচন আগে; এটা যারাই বলছে বা যাকে দিয়ে বলাচ্ছে, এতে সামনে মধ্যপন্থী রাজনীতি বিপদে পড়তে যাচ্ছে কিনা—এমন একটা শঙ্কা আমরা টের পাচ্ছি।’

শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নয়াপল্টন বিএনপির কার্যালয়ের নিচতলায় জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উদ্যোগে শবেবরাত উপলক্ষে দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, রংপুর বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (দপ্তরের সংযুক্ত) মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী।

ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন ব্যক্তি উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘তিনিও (ড. ইউনূস) শেখ হাসিনা দ্বারা নির্যাতিত। তিনি ন্যায়সংগত কাজ করবেন, তার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি বিকাশিত হবে। দেশে অনেক রাজনৈতিক দল আছে, রাজনীতিবিদ আছে; গণতান্ত্রিক পন্থায় তারা ক্ষমতায় আসবে—এ ব্যবস্থাটাই আগে করুক। যারাই ক্ষমতায় আসুক তাদের মাধ্যমেই দেশ চলবে, স্থানীয় নির্বাচন হবে এবং আরো অন্যান্য সংস্কার হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক করছে—স্থানীয় নির্বাচন আগে হতে হবে, তারপর সংসদ নির্বাচন হবে; কেন? রাজনীতি কে করবে, কে ক্ষমতায় আসবে—এটা নির্ধারণ করবে জনগণ। জনগণের সেই ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার জন্যই তো গত ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের বিশ্বাস না করার অর্থই বিরাজনীতিকরণ। এ বিরাজনীতিকরণ করতে করতে গণতন্ত্রের আজ ভঙ্গুর অবস্থা। এটার মধ্য দিয়েই ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়েছে। রাজনৈতিক শক্তিকে যদি খাটো করেন তাহলে চরমপন্থার উত্থান হতে পারে। চরমপন্থা শুধু বাম দিক দিয়ে আসে না, ডান দিক দিয়েও আসে। এটা মাথায় রাখতে হবে।’