পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের পর এবার নতুন করে কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তেও ভারী গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এতে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঝুঁকির মধ্যে সময় কাটাচ্ছে পালংখালী ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে পূর্ববালুখালী, আঞ্জুমান পাড়া, থাইংখালী গ্রামের ৭০টির বেশি পরিবার। এ ঘটনায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। নিরাপত্তার জন্য  বিজিবির পক্ষ থেকে স্থানীয় জেলে, কৃষকদের গরু-মহিষ নিয়ে সীমান্তের কাছে না যেতে সতর্ক করা হচ্ছে।

সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা একাধিক সূত্র ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, ঘুমধুম সীমান্ত (দক্ষিণ দিকে) লাগোয়া কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী সীমান্ত। ৭০০-৮০০ ফুট প্রস্থের নাফ নদী বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার সীমান্ত ভাগ করে রেখেছে। তবে নাফ নদীর টেকনাফ অংশের দূরত্ব তিন-চার কিলোমিটার।

পালংখালী আঞ্জুমান সীমান্তের বাসিন্দা গফুর আলম প্রতিদিন মহিষ নিয়ে সীমান্ত এলাকায় যান। তিনি বলেন, সপ্তাহখানেক ধরে সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। আজ (মঙ্গলবার) সকালে আঞ্জুমান সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে থেমে থেমে চলা গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। সীমান্তের ধারে ধান চাষ করা ছৈয়দ হোসেন বলেন, সীমান্তের কাছে যেতে এখন ভয় লাগে। ভয়ভীতির মধ্য দিয়ে চাষাবাদ করতে হচ্ছে।

স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফয়েজুল ইসলাম বলেন, আমার বাড়ির ওপর দিয়ে মিয়ানমারের উড়োজাহাজ উড়েছে। সকাল-বিকাল ভেসে আসছে গুলির আওয়াজ। গোলাগুলির শব্দে শিশুরা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। এ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী।

স্থানীয় পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী টেলিফোনে বলেন, গোলাগুলির শব্দ পেয়ে সীমান্তবর্তী মানুষদের চলাচল সীমিত করার নির্দেশনা দিয়েছি। পরিস্থিতি এখনও আশঙ্কাজনক নয়। তবে পরিস্থিতি খারাপ মনে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় স্থানীয়দের সরিয়ে নেয়া হবে।

তবে এ বিষয়ে বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।