খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে করোনার নমুনা পরীক্ষার ফল পেতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পিসিআর মেশিন বসানো হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এটি চালুর অনুমোদন না দেয়ায় করোনার উপসর্গ থাকা রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

গতকাল সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজের সামনে গিয়ে দেখা যায়, নমুনা দেয়ার জন্য দেড় শতাধিক মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে। কেউ করোনা পজিটিভ, কেউ উপসর্গ নিয়ে।

লাইনে দাঁড়িয়ে নগরীর বয়রা এলাকার বাসিন্দা মো. রানা বলেন, তিনি ৫ জুলাই নমুনা দিয়েছিলেন। গতকাল দুপুর পর্যন্ত ফলাফল পাননি।

রানা বলেন, তার মতো অনেক মানুষ প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষার ফলাফল জানার জন্য এখানে এসে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরে যাচ্ছে। পরীক্ষার ফল পেতে দেরি হওয়ায় সংক্রমণ বাড়ছে।

করোনা রোগীদের চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিদিন সুস্থ হওয়া রোগীর চেয়ে শনাক্তের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় সক্রিয় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

খুলনার সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, সংক্রমণ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বেশির ভাগ সময় মানুষ সেই পদক্ষেপে শামিল হতে চায়নি। স্বাস্থ্যবিধি মানলে অবস্থা এত খারাপের দিকে যেত না। সম্মিলিত প্রয়াস ছাড়া কারো একার পক্ষে এ যুদ্ধ জয় করা সম্ভব নয়।

খুলনা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এসএম তুষার আলম বলেন, প্রতিদিন তাদের ল্যাবে প্রায় এক হাজার নমুনা পরীক্ষার জন্য আসে। কিন্তু তাদের সক্ষমতা সর্বোচ্চ ৩৭৬টি।

তুষার বলেন, কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা শনাক্ত হওয়ায় গত ৩০ জুন থেকে চারদিন ল্যাব বন্ধ ছিল। তখন থেকেই জট লেগেছে। ওই সময় ২ হাজার ২০টি নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেগুলোর ফলাফল এসেছে। পরবর্তী সময়ে আরো ২ হাজার ১০০টি নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়। সেগুলোর ফলাফল হয়তো দু-একদিনের মধ্যে চলে আসবে।

তিনি জানান, আরো বেশি সক্ষমতার নতুন একটি পিসিআর মেশিন খুলনায় দেয়ার কথাবার্তা চলছে।

এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব পরিচালক অধ্যাপক ড. আশীষ কুমার দাস বলেন, জুনের প্রথম দিকে পিসিআর মেশিন স্থাপনসহ নমুনা পরীক্ষার জন্য অনুমতি চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছে। জুনের শেষদিকে খুলনা মেডিকেলের পিসিআর ল্যাব বন্ধ থাকায় দুদিন ওই ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন না মেলায় বর্তমানে ল্যাবটি বন্ধ।

গতকাল দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩২০ জনের। এ পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৪৪৮ জনের। মারা গেছে ৪৪৩ জন। আর বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৮৮ জনের। মৃত্যু ৪৮ হয়েছে জনের।