আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটিয়ে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেয়া—সরকার গঠন করলে এ দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে চান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল নির্মাণ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১০ জনের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

এ সময় তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তার মেয়ে জাইমা রহমান। বিজয়ীরা তাদের নানা জিজ্ঞাসা তুলে ধরেন এবং তিনি সেগুলোর বিষয়ে খোলামেলা জবাব দেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রথম একটা বিষয় নিশ্চিত করতে হবে—আইন-শৃঙ্খলা। আমরা সবাই যেন রাস্তায় নিরাপদে থাকতে পারি, এটা নিশ্চিত করতে হবে। আর আমাদের যেভাবেই হোক, দুর্নীতিকে অ্যাড্রেস করতে হবে। বিভিন্ন রকম দুর্নীতি আছে, বিভিন্ন পর্যায়ে আমাদের চেষ্টা করতে হবে। এ দুটো জিনিসকে যদি আমরা একটু ভালো করে অ্যাড্রেস করতে পারি, অন্য সমস্যাগুলো অনেকাংশে সমাধান হয়ে আসবে। এটা হচ্ছে আমার প্ল্যান।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ গভর্নমেন্টের সোশ্যাল সেফটির আওতায় ১৩৮টি প্রজেক্ট চালু হয়েছে। কিন্তু এগুলো ঠিক নেই। রিসোর্স নষ্ট হচ্ছে। একজন তিনটা সাপোর্ট পাচ্ছে, আরেকজন একটাও পাচ্ছে না। আমরা এ জিনিসটাকে একটু অর্গানাইজ করতে চাইছি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে। আমরা এটাকে ইউনিভার্সাল রেখেছি।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘যেমন একজন কৃষকের স্ত্রীও (ফ্যামিলি কার্ড) পাবেন, একজন ভ্যানচালকের স্ত্রীও পাবেন, আরেকজন অফিশিয়ালের ওয়াইফও পাবেন।’

ঢাকার যানজট নিরসনে রাজধানীর বাইরে স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘রোড ডিজাইনিং, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম এবং চাকরি ঢাকাকেন্দ্রিক গড়ে ওঠায় ট্রাফিক জ্যাম বাড়ছে। ট্রাফিক সমস্যা সমাধানে ঢাকার বাইরে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তুলব। ফ্লাইওভারে হয়েছে, মেট্রোরেল দেখছি। মেট্রোরেল ব্যয়বহুল, জায়গা বেশি নেয়। এক্ষেত্রে মনোরেল সুবিধাজনক। ছোট ছোট বগি এবং ঢাকার সব জায়গায় এটিকে যুক্ত করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় পণ্যদ্রব্যের মূল্য বাড়ে। তাই কৃষককে প্রণোদনা দেয়ার পাশাপাশি এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘পড়ালেখা সহজ করতে হবে। আনন্দপূর্ণ করতে হবে, যাতে বাচ্চারা আগ্রহী হয়। আমরা ক্ষমতায় এলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সেভাবে সাজাব। একাডেমিক পড়ালেখার সঙ্গে খেলাধুলাকেও যুক্ত করব। খেলাধুলাতেও পাস করতে হবে। আর্ট অ্যান্ড কালচার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাহলে ইন্টারনেট ব্রাউজ করা থেকে ঠেকানো যাবে। এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নিয়ে আলাদা টিম করে কাজ করব।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের তরুণরা অদক্ষ অবস্থায় বিদেশে যাচ্ছেন। তাই অনেক সময় সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। আমরা তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছি। প্রবাসীরা সঠিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে তাদের জন্য প্রণোদনা রাখতে পারব।’

এ সময় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন ও প্রেস সচিব এএএম সালেহ শিবলী উপস্থিত ছিলেন।

আজ চট্টগ্রামসহ ৪ জেলায় ৬টি জনসভা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারে গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে গেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ চট্টগ্রামসহ চার জেলায় ছয়টি নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন তিনি।

সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে তারেক রহমান চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। সেখানে বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাউদ্দিন আহমদ, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ অন্যরা তাকে স্বাগত জানান। রাতে তিনি হোটেল র‍্যাডিসন ব্লুতে অবস্থান করেন।

গতকাল ঢাকার গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দলীয় চেয়ারম্যানের এ সফরের সূচি প্রকাশ করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি জানান, আজ তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনী সমাবেশ হবে চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ডে বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে। পরে তিনি ফেনীতে যাবেন। সেখানে ফেনী পাইলট স্কুল খেলার মাঠে বিকাল ৪টায় জনসভায় যোগ দেবেন। এরপর বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে আরেকটি জনসভায় তার অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। কুমিল্লায় আরো দুটি জনসভা করবেন তিনি। এর একটি সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে সুয়াগাজী ডিগবাজির মাঠে। অন্যটি সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে। কুমিল্লা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জে এসে একটি জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। এ জনসভা রাত সাড়ে ১১টায় কাঁচপুর বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে গভীর রাতে গুলশানের বাসায় ফিরবেন তারেক রহমান।

গত ২২ জানুয়ারি সিলেট সফর দিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের প্রচার শুরু করেন তারেক রহমান।

এদিকে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাজধানীর বনানীতে তার কবর জিয়ারত করেছেন তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, প্রয়াত কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমানসহ দলের কয়েকজন নেতাকর্মী। গতকাল বিকালে বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।