কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাসহ ১৯ জনকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ১৫-২২ নভেম্বরের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এ সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য নোটিসও দেয়া হয়েছে।

একই অভিযোগে ২৯ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বরের মধ্যে আরো পাঁচ কর্মকর্তাকে দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।

নোটিসপ্রাপ্তরা হলেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলও) রেজাউল করিম, অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এএলও) মোশাররফ হোসেন, বিজয় কুমার সিংহ, কানুনগো আব্দুল খালেক, আব্দুর রহমান, বসন্ত কুমার চাকমা, সার্ভেয়ার রাসেল মাহমুদ মজুমদার, কবির আহমেদ, ক্যাশব লাল দে, পরিমল চন্দ্র দাশ, সাইফুল ইসলাম পাটোয়ারী, মিশুক চাকমা, আতাউল হক, পিকলু দাশ, তহশিলদার জয়নাল, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী এহসান কুতুবী আবুল হাশেম, কালারমারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ ও কক্সবাজার পৌরসভার সচিব রাসেল চৌধুরী। এছাড়া কক্সবাজার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা শামীম হোসেন, কানুনগো, নুরুল ইসলাম, সার্ভেয়ার মো. জিয়াউর রহমান, আশরাফুজ্জামান ও সাবেক কানুনগো বাবুল বাতেনকে হাজির হতে নোটিস দেয় দুদক।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলায় চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথম কাজ ভূমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে দালালদের সিন্ডিকেটটি তৈরি হয়েছে। এসব দালাল জমির মালিকদের নাম দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে সরকারের কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি নজরে আসার পর দুদক আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধানের শুরুতেই দুদক ও র্যাব যৌথ অভিযান চালিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ ওয়াসিম নামের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার এক সার্ভেয়ারকে নগদ টাকাসহ আটক করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে ২২ জুলাই মো. সেলিম উল্লাহ, ৩ আগস্ট মোহাম্মদ কামরুদ্দিন ও সালাহ উদ্দিন নামের তিন দালালকে আটক করে দুদক। আটকের সময় এসব দালালের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকার নগদ চেক ও ভূমি অধিগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ মূল নথি উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, নিজস্ব অনুসন্ধান ও আটক দালালদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে শতাধিক দালালের সন্ধান পাওয়া গেছে। এখন যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।