দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পল্লী অঞ্চলে আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার আবর্তনযোগ্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিলের আওতায় কৃষক বা গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ পর্যন্ত সরল সুদ বা মুনাফা প্রযোজ্য হবে।

আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ তহবিল সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, দারিদ্র্য বিমোচন, গ্রামীণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় কৃষি খাতের জন্য এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। ৫ বছর মেয়াদি স্কিমটি আবর্তনযোগ্য হওয়ায় ব্যাংকের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থ প্রতিবছর গ্রাহক পর্যায়ে পুনঃবিতরণ করা যাবে। এ স্কিমের আওতায় বিতরণকৃত ঋণ ব্যাংকসমূহ তাদের বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতেও প্রদর্শন করতে পারবে।

এ স্কিমে অংশগ্রহণকারী তফসিলি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদ বা মুনাফা হারে এই পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা পাবে। আর কৃষক বা গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদ বা মুনাফার হার (সরল) হবে ৮ শতাংশ।

বিদ্যমান বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালার আওতাভুক্ত সব প্রকার শস্য-ফসল, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও সেচ যন্ত্রপাতি খাত এবং আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডসহ অন্য পল্লী ঋণ খাতে এ স্কিমের আওতায় অর্থায়ন করা যাবে। অধিক সংখ্যক প্রকৃত ও প্রান্তিক কৃষককে এ ঋণ সুবিধা দিতে খাতভিত্তিক ঋণসীমাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে নীতিমালায়। এর মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা, শস্য ও ফসল খাতে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা, কৃষি যন্ত্রপাতি খাতে ২০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য পল্লী ঋণ ও আয় উৎসারী খাতে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা ঋণ পাওয়া যাবে।

ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষীদের সহায়তার জন্য শস্য ও ফসল চাষের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ (শুধুমাত্র শস্য-ফসল দায়বদ্ধকরণের বিপরীতে) প্রদান করা যাবে। এছাড়া নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের অর্থায়ন সহজ করার লক্ষ্যে প্রচলিত জমি বা স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে বিকল্প জামানত (ব্যক্তিগত বা দলগত জামানত) গ্রহণ করা যাবে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ বার এ স্কিমের সুবিধা নিতে পারবেন এবং এ ঋণের অর্থ কোনোভাবেই পুরাতন ঋণ সমন্বয়ের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতাও এ তহবিল থেকে ঋণ পাবেন না।

কোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রে ঋণের অর্থ অপব্যবহার বা অসদ্ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে অথবা গ্রাহক পর্যায়ে ৮ শতাংশের বেশি সুদ আদায় করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট অর্থের ওপর নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত ২ শতাংশ শাস্তিমূলক সুদসহ এককালীন অর্থ কেটে নেবে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে ব্যাংক অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত ওই ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে তা আদায় করা হবে।

সার্কুলারে ব্যাংকগুলোকে ফসল কাটার মৌসুম শুরুর আগেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা এবং ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে ব্যানার স্থাপনের মাধ্যমে এই ঋণের ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।