জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারিসহ পাঁচ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক আটটি দল। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের পক্ষে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গতকাল দুপুরে এ স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।
এর আগে পুরানা পল্টন মোড় থেকে একটি মিছিল নিয়ে মৎস্য ভবনের কাছে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেয়। বাধা সত্ত্বেও আট দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তাদের দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যমুনায় প্রবেশ করতে সক্ষম হন। প্রতিনিধি দলে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতারা ছিলেন।
স্মারকলিপি জমা দেয়ার পর এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা আটটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ প্রতিনিধিরা প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আমরা সরকারকে আন্তরিকভাবে সব ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত আছি।’
সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনায় বসার আহ্বানের প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা বসতে রাজি। খেলায় দুই দল থাকে, কিন্তু একজন রেফারি দরকার হয়—আপনি সেই রেফারির দায়িত্ব পালন করুন। আমরা সহনশীল, আলোচনায় আগ্রহী। জাতীয় স্বার্থে অতীতেও ছাড় দিয়েছি, প্রয়োজনে আবারো দেব। তবে সব উপদেষ্টার নিরপেক্ষ ভূমিকা আমরা চাই।’
সমাবেশে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমাদের জুলাইয়ের অর্জনকে ব্যর্থ হতে দেব না। গণভোট অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের আগে হতে হবে।’
উপদেষ্টাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের ব্যাপারে আপনারা চালাকি শুরু করেছেন। আপনাদের চালাকি আমরা বুঝি। কিন্তু এ সময়ক্ষেপণ আপনাদের বিপদে ফেলবে। আমরা এখন নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করছি। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আমরা আঙুল বাঁকা করব। ঘি আমাদের লাগবেই। নো হাংকিপাংকি। একদিনে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চাঁদাবাজি হয় তা দিয়ে একটি গণভোট করা যায়।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি স্মারকলিপি দেয়া অন্য দলগুলো হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।









