অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা (ইন্টারনাল অডিট) পেশায় অসামান্য নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আউটস্ট্যান্ডিং কট্রিবিউশন ইন দ্য ফিল্ড অব ইন্টারনাল অডিটিং (ওসিআইএ) অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পেয়েছেন বাংলাদেশের নওশীন আহমেদ।

তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স এবং দ্য ইনস্টিটিউট অব ইন্টারনাল অডিটরস বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল।

এশিয়ান কনফেডারেশন অব ইনস্টিটিউটস অব ইন্টারনাল অডিটরস কর্তৃক প্রদত্ত এ সম্মাননা অর্জনের মাধ্যমে তিনি প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এ পুরস্কারে ভূষিত হলেন। গত ১৯ জুন সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এসিআইআইএ বিজনেস মিটিং এবং ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

এ অ্যাওয়ার্ড অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পেশায় নেতৃত্ব, পেশাগত উন্নয়ন, গবেষণা, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদানের জন্য সর্বোচ্চ সম্মাননাগুলোর একটি।

নওশীন আহমেদ অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও কমপ্লায়েন্স খাতে ১৩ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। কর্মজীবনে তিনি এসিআই লিমিটেড, মারিকো বাংলাদেশ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশে ইন্টারনাল অডিট শিক্ষার প্রসারেও তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তার উদ্যোগে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রথমবারের মতো দ্য আইআইএ একাডেমিক এলায়েন্স প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং পাঠ্যক্রমে ইন্টারনাল অডিট সংযোজন করে। পরবর্তীতে তার উদ্যোগেই ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি একই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়।

আইআইএ বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ এবং প্রথম নারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নওরীন আহমেদ নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তার নেতৃত্বে সদস্যদের সম্পৃক্ততা, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমানতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় কর্মসূচি এবং পেশাগত উন্নয়ন কার্যক্রমে পেশাজীবীদের অংশগ্রহণও বেড়েছে।

তিনি রিস্ক-বেসড ইন্টারনাল অডিট বিষয়ক প্রশিক্ষণ মডিউল এবং বাস্তবভিত্তিক কেস স্টাডি তৈরি করেছেন, যা ইতোমধ্যে শতাধিক পেশাজীবীর দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। এছাড়া দেশ-বিদেশের পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সার্টিফাইড ইন্টারনাল অডিটর (সিআইএ) সনদ অর্জনে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ। দ্য আইআইএ’র এক্সাম ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি এক হাজারের বেশি সিআইএ পরীক্ষার প্রশ্ন পর্যালোচনা করেছেন এবং সিআইএ ও সিআইএ চ্যালেঞ্জ পরীক্ষার সিলেবাস হালনাগাদে ভূমিকা রেখেছেন।

এ ছাড়া দ্য আইআইএ এডভাইজরি গ্রুপ ও গ্লোবাল টাস্ক ফোর্সের সদস্য হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কমিউনিকেটিং ফাইনাল এনগেজমেন্ট রেজাল্টস এবং থার্ড-পার্টি টপিক্যাল রিকোয়ারমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত নির্দেশিকা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

২০২৫ সালে কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত দ্য আইআইএ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স এবং দ্য আইআই এ দ্য আইআইএ ইআরএম ভার্চুয়াল কনফারেন্সে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, এন্টারপ্রাইজ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, সংকট ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত সুশাসন বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

এর আগে ২০২০ সালে দ্য আইআইএ গ্লোবাল তাকে বিশ্বের সেরা ১৫ উদীয়মান নেতার একজন হিসেবে নির্বাচিত করেছিল।

তার এ স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি বাংলাদেশের জন্যও মাইলফলক। এ সাফল্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পেশাগত সক্ষমতা ও মর্যাদাকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

বিজ্ঞপ্তি