কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। ব্যবসায়ীদের মালামাল সরানোর সময় দিয়েও ‘শান্তিপূর্ণ’ উচ্ছেদ করতে পারেনি তারা। 

আজ শনিবার দুপুরের পর উচ্ছেদ অভিযানে গেলে অবৈধ দখলদার ব্যবসায়ীদের আনা ‘ভাড়াটে’ লোকদের বাধার মুখে পড়তে হয়। এক সময় সেই বাধাই সংঘর্ষে রূপ নেয়। একদিকে ব্যবসায়ীদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, অন্যদিকে পুলিশের টিয়ারশেল। সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট হয়ে পড়ে ‘রণক্ষেত্র’। 

অবৈধ দখলদার ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর কিছুটা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে কউক ও জেলা প্রশাসন। এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব আবু জাফর রাশেদ ও কক্সবাজার সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. শাহরিয়ার মুক্তার। ওই সময় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনির উল গীয়াস। সংঘর্ষ চলাকালে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

৫২ জন অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করতে উচ্চ আদালত নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা মতেই উচ্ছেদ অভিযানে গিয়েছিল কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়ার আগেই দখলদার ব্যবসায়িরা টাকা দিয়ে ভাড়া করে কিছু নারীসহ শতাধিক মানুষ জড়ো করে রাখেন। দখলদারদের নেতৃত্ব দেয়া আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েকজন নেতা উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে থাকেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, অবৈধ দখলদারদের ভাড়াটে লোকদের রাস্তায় সাদা কাপড় গায়ে দিয়ে শুয়ে রাখা হয়। ওই সময় দখলদারদের নেতারা উসকানিমূলক বক্তব্য চালিয়ে যান। প্রশাসন উচ্ছেদ করতে চাইলে দখলদার ও ‘ভাড়াটে’ লোকজন হামলা চালায়। ওই সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে।

বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই সংঘর্ষ চলে। পরে কউক ও জেলা প্রশাসন উচ্ছেদে নামে। তবে তারা অভিযান শুরু করলেও পুরোপুরি উচ্ছেদ না করেই ফিরে আসে।

জানা গেছে, যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক নুরুল করিম রাসেল, সাংবাদিক ইকবাল বাহার চৌধুরীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। ওই সময় পুলিশ অন্তত ৪ জনকে আটক করেছে। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) সচিব আবু জাফর রাশেদ সাংবাদিকদের জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কউক ও জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। ওই সময় বাধা দেয়ায় ও হামলা করায় পুলিশ আইন প্রয়োগ করেছে।

তিনি জানান, গত ১৫ অক্টোবর উচ্ছেদ অভিযানে গেলে দখলদার ব্যবসায়ীরা মালামাল সরিয়ে নেয়ার জন্য একদিন সময় চেয়েছিলেন। মানবিক বিবেচনায় তাদের একদিন সময় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু দুদিন পর আবার উচ্ছেদ অভিযানে গেলে উচ্ছেদ টিমের উপর হামলা চালিয়েছে তারা।

জানাযায়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী সুগন্ধা পয়েন্টে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে। পরে কক্সবাজার পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স নেয় দখলদাররা। এই অবৈধ দখলবাজদের কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল উচ্ছেদের নোটিশ দেয়। পরে জসিম উদ্দিনসহ ৫২ জনের সিন্ডিকেটের দখলদাররা একটি রিট আবেদন দায়ের করে। একই বছরের ১৬ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল জারি করে স্থগিতাদেশ দেন। 

পরে স্থগিত আদেশের বিরুদ্ধে ভূমি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। গত ১ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ শুনানি শেষে হাইকোর্টের রুল ও স্থগিতাদেশ খারিজ করে উচ্ছেদের রায় দেন।