নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা প্রয়োগে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সফলতা দেখিয়েছে বলে মনে করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস। আজ বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরি স্কুলে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

পিটার বলেন, বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। বাংলাদেশে ৭৫ ভাগ জনগোষ্ঠী করোনা ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এসেছে। এটি খুবই বড় একটি সংখ্যা; যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। এটি খুবই সাফল্যের একটি ব্যাপার।

বাংলাদেশে টিকা কার্যক্রম আরো ত্বরান্বিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডোজ টিকা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ বছরের অংশীদারত্ব। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ কোটি টিকা দেয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে আমরা আমাদের সহযোগিতার হাত আরো বৃদ্ধি করবো।

নারায়ণগঞ্জে টিকাদান কার্যক্রমের প্রশংসা করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, নারায়ণগঞ্জে সফল টিকাদান কর্মসূচি দেখতে পেরে আনন্দিত। শিশুরা খুবই সাহসী। তারা কেউই টিকা নেয়ার সময় ভয় পায়নি। টিকাদানের এই কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে ভালো লেগেছে।

রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বরাবরই ইপিআই কার্যক্রমে এগিয়ে ছিলাম। করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রমেও আমরা একইভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের অনেকেই লজিস্টিক সাপোর্ট দিচ্ছেন। এখনও যারা টিকাদান কর্মসূচির বাইরে রয়েছেন তাদেরও খুঁজে বের করে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুশিউর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শেখ মোস্তফা আলী প্রমুখ।

ইউএসএআইডির অর্থায়নে ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় কমিউনিটি হেলথ সিস্টেম প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জে শিশুদের করোনার টিকা প্রদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক।