লক্ষ্মীপুরে সড়কের দুই পাশে বসবাসকারী নদীভাঙনে ভূমিহীন হয়ে পড়া প্রায় ১০ হাজার হতভাগ্য মানুষ পুলিশের পক্ষ থেকে পাচ্ছে কবরস্থান ও মসজিদ। এ উপলক্ষে আজ বেলা ১১টায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ লক্ষ্মীপুরে আসছেন। তিনি সাড়ে ২৯ শতাংশ জমির ওপর করা কবরস্থান ও মসজিদটির ফলক উন্মোচন করবেন।

এ নিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ড. এএইচএম কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম চরমনসা গ্রামে জমি কিনে কবরস্থানটি করা হয়েছে। সেখানে একসঙ্গে চার শতাধিক মানুষকে কবর দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। মানবিক কারণে আইজিপির উদ্যোগে জেলা পুলিশ কাজটি বাস্তবায়ন করেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে ২০ বছরে কমলনগর ও রামগতি উপজেলার প্রায় অর্ধেক তলিয়ে গেছে। নদীতে ভিটেমাটি হারানো অন্তত দুই হাজার পরিবারের ১০ হাজার অসহায় মানুষ রামগতি-লক্ষ্মীপুর সড়কের দুপাশে বসবাস করে। ভবানীগঞ্জ থেকে তোরাবগঞ্জ এলাকা পর্যন্ত আট কিলোমিটার এলাকায় সড়কের দুপাশে কোনোমতে অস্থায়ী ঘর তুলে তারা বেঁচে থাকার স্বপ্ন বুনছে। যদিও তাদের পরিবারের কেউ মারা গেলে কবর দেয়ার জন্য কোনো কবরস্থান নেই। বাধ্য হয়েই যেখানে-সেখানে মরদেহ দাফন করছে। অনেক সময় মরদেহ নিয়ে ৬-৭ ঘণ্টা বসে থাকতে হয়।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর আইজিপির উদ্যোগে পুলিশ সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের আবদুর কুদ্দুসের কাছ থেকে কবরের জন্য জমি কিনে নেয়। গত বছর ১ ডিসেম্বর জমিটি রেজিস্ট্রি হয়। এরপর পুরো জমিতে সীমানাপ্রাচীর তুলে কবরস্থান ও মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সেখানে গভীর নলকূপ, মরদেহ গোসল করানোর ঘর ও বাথরুম রয়েছে। প্রধান সড়ক থেকে কবরে যাওয়ার জন্য রাস্তাও সংস্কার করা হয়েছে।