নৌ-উপদেষ্টার সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের আলোচনার দিনই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে আন্দোলনের প্রধান দুই সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকনসহ একাধিক বন্দর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকার কথা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির অনুরোধ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা চিঠিতে এ অনুরোধ করা হয়। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দাকে (এনএসআই) চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।
সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এসব কর্মচারী রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং আন্দোলনের আড়ালে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুতর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের দেশত্যাগ রোধ এবং তাদের সম্পদের উৎস যাচাইয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে নৌ-উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার দিনই এমন পদক্ষেপ আসায় বন্দরের চলমান আন্দোলন ও এনসিটি ইস্যুকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আদেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টদের কেউ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সংযুক্ত), কেউ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের (সংযুক্ত) এবং কেউ পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলবে এবং তদন্তকালীন সময়ে তারা কোনো গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল দায়িত্বে থাকতে পারবেন না।
প্রত্যাহার ও সংযুক্তির তালিকায় পরিবহন, যান্ত্রিক, পরিকল্পনা, বিদ্যুৎ ও প্রশাসন বিভাগে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে সহকারী, উপসহকারী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে ড্রাইভার, ফোরম্যান ও কন্ট্রোল রুম-সংশ্লিষ্ট জনবলও রয়েছে।
সচিবালয়ের আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি সেবা ও জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলোচনার মধ্যেই এমন সিদ্ধান্ত আন্দোলনকারী পক্ষের ওপর চাপ বাড়াবে। অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, অপারেশনাল শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের ব্যবস্থা অনিবার্য। এদিকে বন্দর-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলোচনার পাশাপাশি শাস্তিমূলক পদক্ষেপ একসঙ্গে চলায় সংকটের স্থায়ী সমাধান অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।









