আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামীকাল থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল বিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এসব কথা জানান। ইসি সচিব বলেন, ‘সব নিবন্ধিত দল নিয়েই আলোচনা করতে হবে। ১৩ তারিখের (বৃহস্পতিবার) আলোচনায় কাদের ডাকা হবে এখন পর্যন্ত ঠিক করিনি। পর্যায়ক্রমে এটা জানাব।’
আলোচনার আগেই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও নির্বাচনী আচরণবিধি সংশোধন করে কেন গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি ইসি সচিব। সংলাপে জাতীয় পার্টিকে ডাকা হবে কিনা, জানতে চাইলে আখতার আহমেদ বলেন, ‘কাদের ডাকব, এখনো ঠিক করিনি। আলোচনা করে এটার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব। ধাপে ধাপে জানতে পারবেন।’
সংলাপে দলগুলোর সঙ্গে ইসির কী বিষয়ে আলোচনা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘আরপিও এবং আচরণবিধিতে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তাদের সহযোগিতার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। তাদের বক্তব্য শুনব।’
সংলাপের পর দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে আরপিও ও আচরণবিধিতে সংশোধন আনা হবে কিনা, এমন প্রশ্নে ইসি সচিব সবাইকে অপেক্ষা করতে বলেন।
সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রায় ৩০টির বেশি আবেদন আদালত পর্যন্ত গেছে বলে জানান ইসি সচিব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাগেরহাটে আগে চারটি আসন ছিল। নির্বাচন কমিশন সেটি কমিয়ে তিনটি করে গেজেট করেছিল। আদালত ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করে চারটি পুনর্বহাল করেছেন। সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর ইসি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে যে আপিলে যাবে নাকি মেনে নেবে।’
সীমানার জটিলতার কারণে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে কিনা, জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘পড়তে পারে, কেননা সীমানার ব্যাপারটা প্রাসঙ্গিকভাবে নির্ভর করছে আদালতের আদেশ কীভাবে কমিশন পর্যালোচনা করবে বা তার পরবর্তী পদক্ষেপ কীভাবে নেবে তার ওপর।’
১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে সংলাপ আয়োজন করা যাবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ব্যবস্থা রাখব। সংলাপ, আলোচনা, মতবিনিময় যেটাই বলি না কেন, ১৩ তারিখে আমরা নিশ্চয়ই সেটা করব।’
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি অতীতেও বলেছি, আজকেও বলছি—গণভোট সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনে বা ইসি সচিবালয় পর্যায়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা বা আলোচনা পাইনি।’
ইসির প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর অনাস্থাসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘আশা করি সব দল পজিটিভ রেসপন্স করবে। আমরা আগাগোড়া দুটি বিষয়ে একটু পিছিয়ে—একটা হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় বা সংলাপ আর দ্বিতীয়টা পর্যবেক্ষকদের নিবন্ধন।’
গত সোমবার মাঝরাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করে ইসি। আচরণবিধিতে কী কী পরিবর্তন এসেছে, জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘পোস্টার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একটা আসনে একটা জনসভায় একজন প্রার্থী তিনটির বেশি মাইক ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে প্রার্থী একটার পর একটা—একাধিক জনসভা করলে তিনটি করে মাইক ব্যবহার করতে পারবেন। সেখানে বাধা নেই। লিফলেট করা যাবে, ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড ব্যবহার করা যাবে। চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী কোনো স্থাপনা তৈরি করা যাবে না।’
এদিকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের প্রথম দিনে সকাল ও বিকালের পর্বে ছয়টি করে দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল সন্ধ্যায় দলের প্রধানদের কাছে সংলাপের চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা। আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংলাপে সংশ্লিষ্ট দলের সর্বোচ্চ তিনজন করে প্রতিনিধিকে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসি।
ইসির জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মো. আশাদুল হক জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ সংলাপে বসবে। আর বেলা ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) সঙ্গে বসবে ইসি।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে ঘোষণা করা হবে তফসিল। এরই মধ্যে শেষ করে আনা হয়েছে ভোট প্রস্তুতির কাজ। অংশীজনের মধ্যে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, নারী নেত্রী, গণমাধ্যমসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে সংলাপও করেছে ইসি। শেষ ধাপে এসে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। আরপিও, আচরণবিধিসহ সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়েই দলগুলোর সঙ্গে এ সংলাপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বর্তমানে নিবন্ধিত দল রয়েছে ৫৩টি। এছাড়া আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত ও তিনটি দলের নিবন্ধন বাতিল রয়েছে। আর নতুন তিনটি দলের নিবন্ধন চূড়ান্ত হবে আজ।









